Main Menu

বর্বরোচিত পিলখানায় হত্যার ৮ বছর

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরের বর্বরোচিত ঘটনায় শহীদদের ৮ম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ শনিবার।

বিজিবি’র সদর দফতর পিলখানায় দেশের ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চলে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি।

বিপথগামী বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের হাতে ওই দু’দিনে বিজিবি’র তখনকার মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।

এছাড়াও বেসামরিক ও বিডিআর সদস্যসহ আরও ১৭ জন নিহত হন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায়। নিহত এই ১৭ জনের মধ্যে ডিজির স্ত্রীসহ সাতজন বেসামরিক ব্যক্তি, নয়জন বিডিআর সদস্য ও একজন সেনা সদস্য রয়েছেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে এই দিনটি পালন করবে।

বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকান্ডে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় পিলখানাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সকল রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় আজ শনিবার বাদ ফজর খতমে কোরআন, বিজিবির সকল মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় শনিবার সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়াও ২৬ ফেব্রয়ারী রোববার বাদ আছর পিলখানাস্থ বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

উক্ত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। স্বরাষ্ট্র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, শহীদদের নিকটাত্মীয়গণ, পিলখানায় কর্মরত সকল অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবীর সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারীগণ এতে অংশ নিবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় লালবাগ থানায় সদর ব্যাটালিয়নের ডিএডি (উপ-সহকারী পরিচালক) তৌহিদুল আলমসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। অজ্ঞাতনামা হিসেবে কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে আসামি করা হয়। মামলাটি পরে নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়।

২০১০ সালের ১২ জুলাই পিলখানা হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে সম্পূরক চার্জশিটে আরও ২৬ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়াও বিস্ফোরক আইনে ৭৮৭ জনকে অভিযুক্ত করে আলাদা একটি অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরে রাজধানীর বখশিবাজারে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিশেষ এজলাস বসিয়ে ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি দু’টি মামলার একসঙ্গে বিচারকাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ দুই বছর বিচার কার্যক্রম শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিলখানা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। এ রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৬২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বেকসুর খালাস দেওয়া হয় ২৭১ জনকে।

Share





Related News

Comments are Closed