Main Menu

এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার সময় কলেজ ছাত্র আটক

Manual7 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে এক অনিয়মিত ছাত্রের পৌরনীতি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে পর্যবেক্ষকদের হাতে ধরা পড়ল প্রক্সিদাতা এক কলেজ ছাত্র। তাকে কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মূল ছাত্রকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার দেখানো হয়েছে। রোববার (১৯ ফেব্রয়ারি) সকালে কমলগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
কমলগঞ্জ এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মাধবপুর ইউনিয়নের ভাসানী গাঁও গ্রামের রসিদ মিয়ার ছেলে সুজেল মিয়া একজন অনিয়মিত ছাত্র। তার রোল নং ৩৩১৭৭৬, নিবন্ধন নং ১৩১৬৫৫৫৫০৬। গত দুই বছর ধরে সে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেও সব বিষয়ে কৃতকার্য হতে পারেনি। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী হিসাবে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় রোববার পৌরনীতি বিষয়ে পরীক্ষায় সুজেল মিয়া অংশ গ্রহণের কথা ছিল। তার স্থলে একই গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে কমলগঞ্জ গণ-মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শাকিল আহমেদ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। পরীক্ষা চলাকালীন প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র দেখে রোল নম্বর মেলানোর সময় ৭ নং কক্ষের একজন পর্যবেক্ষকের সন্দেহ হলে বিদ্যালয়ে রক্ষিত এসএসসি ফরমের ছবির সাথে মিলিয়ে দেখতে পান মূল পরীক্ষার্থী সুজেল মিয়া। তার স্থলে কলেজ ছাত্র শাকিল আহমেদ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। তখনই কক্ষের পর্যবেক্ষক প্রক্সিদাতা কলেজ ছাত্রকে ধরে কেন্দ্র সচিবের কাছে সোপর্দ করেন।
পরবর্তীতে কমলগঞ্জ এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র-১ নং-এর সচিব প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রফিকুল আলমকে অবহিত করে আটক প্রক্সিদাতা কলেজ ছাত্রকে কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করেন।
কেন্দ্র সচিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রক্সিদাতা কলেজ ছাত্রকে পুলিশে দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কমপক্ষে তার ছয় মাসের সাজা হতে পারে বলে তিনি জানান।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, মূল পরীক্ষার্থী সুজেল মিয়ার প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র জব্দ করে তাকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার দেখানো হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রফিকুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি অমার্জনীয় অপরাধ। তাই আটক কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
কমলগঞ্জে দুই ভাষা সৈনিকের সত্যিকারের কোন মূল্যায়ন নেই
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রয়াত দুই ভাষা সৈনিকের সত্যিকারের কোন মূল্যায়ন নেই। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করলেও আঞ্চলিক পর্যায়ে থাকার কারনে প্রয়াত জননেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস ও মফিজ আলী ভাষা সৈনিক হিসাবে এখনও মূল্যায়িত হননি। ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছরে ভাষার মাসে কমলগঞ্জের সচেতন মহল এমন প্রশ্ন তোলে ধরেন।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহনকারী সাবেক সাংসদ প্রয়াত জননেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস ভাষা আন্দোলনের সময়ে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে নেতৃত্ব দিলেও ভাষার মাসে তাঁর কোন মূল্যায়ন নেই। অপরদিকে পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামে জন্মগ্রহনকারী প্রয়াত মফিজ আলী ঔপনিবেশিক পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির ভাষা বিরোধী আন্দোলনের সময়ে সিলেট ও শমশেরনগর কেন্দ্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের সেই পথ ধরেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ পূর্ব পাকিস্তান চা শ্রমিক সংঘের শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হিসাবে মফিজ আলীকে ২০০৩ সনে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করলেও আর কোন মূল্যায়িত হননি। কমলগঞ্জের লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ঢাকাকে কেন্দ্রবিন্দু করে সংগঠিত হলেও তা হয়ে উঠে বাঙালির জাতীয়তা তথা জাতিসত্ত¡ার আন্দোলন। ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসক গোষ্টির ভাষা বিরোধী এ আন্দোলন একই সঙ্গে গ্রাম ও শহরকে যুক্তভাবে গড়ে উঠে। ফলে বিভিন্ন স্থানে এ আন্দোলনের চরিত্র অভিন্ন ছিল। কমলগঞ্জের কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহনকারী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস ভাষা আন্দোলনের ঢাকা কেন্দ্রিক নেতা হলেও তিনিও মূল্যায়িত হননি। তেমনি বৃহত্তর সিলেটের অন্তর্গত কমলগঞ্জের প্রয়াত শ্রমিক নেতা মফিজ আলী ভাষা আন্দোলনের এক দৃশ্যমান নেতা ছিলেন। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও তিনি সেভাবে বিবেচ্য বা মূল্যায়িত হয়ে উঠেননি। এই দুই প্রয়াত নেতা মফস্বল অঞ্চলের অধিকারী হওয়ার কারনে কি তাদের ঠিকমতো বুঝে নেওয়া যাচ্ছে না এ প্রশ্ন এলাকার সচেতন মানুষের।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code