জাদুকাঁটা নদীতে চলছে বালি পাথর লুটের মহোৎসব
হাবিব সরোয়ার আজাদ,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: গত এক মাস ধরে ঢাক ঢোল পিঠিয়ে সুনামগঞ্জের সীমান্তনদী জাদুকাঁটা ও মাহারাম নদীর তীর কেঁটে বালি-পাথর লুট বন্ধে থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা মতবিনিময় সভা করার পরও নদীর তীর কেঁটে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব থামানো যাচ্ছেনা।
নদীর তীর কাঁটা প্রতিরোধে ফাঁড়ির পুলিশ টহলে গেলে সাময়িক বন্ধ থাকে বালি পাথর লুটের উৎসব, পুলিশ ফাঁড়িতে ফিরে আসার পর ফের শুরু হয় সেইভ, ড্রেজার আর বোমা মেশিন দিয়ে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগীদের দাবি পুলিশ লোক দেখানো দায়িত্ব পালন করছে। নৌকা, সেইভ ড্রেজার, বোমা মেশিন ধরে আর তদবীর করলেই ছেড়ে দেয়।
পুলিশ দিনে একবার নদীর তীরে টহলের নামে ঘুরাফেরা করে ফাঁড়িতে ফিরে আসার পর ফের শুরু হয় সেইভ, ড্রেজার ও বোমা মেশিন লাগিয়ে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব। সোমবার সরেজমিনে দুই নদীর তীরে ঘুর এমন চিত্রই দেখা যায়। দেখা গেছে পুলিশের দায়সাড়া দায়িত্বপালনের চিত্র।
উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের ঘাগটিয়ার আদর্শগ্রাম, বড়টেক এলাকা ও বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মাহারাম নদীর উৎস মুখ ও টিলা বাজারের নীচে সেইভ, ড্রেজার ও বোমা মেশিন লাগিয়ে নদীর তীর কেঁটে, নদীতে পুকুর খাল তৈরী করে অপরিকল্পিত ভাবে বালি পাথর লুটের উৎসব বন্ধে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাস, থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েকদফা মতবিনিময় সভা করে। নদী থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সেইভ, ড্রেজার ও বোমা মেশিনের সরঞ্জামী ভ্রাম্যমাণ আদালত পুড়িয়ে ফেলা হয়। এরপরও কেন থামছে না বালি পাথর লুটের মহোৎসব? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সোমবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন ভাবে প্রায় অর্ধ শতাধিক পঞ্চবটী ট্রলার ও ২৫ থেকে ৩০টি সেইভ মেশিন লাগিয়ে জাদুকাঁটার আদর্শগ্রামের সামনে, বড়টেকের সামনে, মাহারাম নদীর টিলা বাজার ও উৎস মুখে চলছে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব। এসব পঞ্চবটি ট্রলার ও সেইভ মেশিন লাগিয়ে যেসবস শ্রমিকেরা বালি পাথর লুটে ব্যস্ত তাদের নিকট থেকে জায়গার মালিকানা ও থানা পুশিলের নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকজন চাঁদাবাজকেও প্রতি ট্রিপে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে নদীতে।
নদীতে থাকা বালি পাথর শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থের কথা ও মামলা, হামলার কথা চিন্তা করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, সেইভ, ড্রেজার ও নদীর তীর কেঁটে বালি পাথর উক্তোলন করার পর প্রতি ট্রলার অথবা ফুট হিসেবে নদীর তীর ও চরের মালিকানা দাবি করে আসা কয়েকটি চক্রকে টাকা দিতে হয়। এরপর বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ও থানা পুলিশেকে ম্যানেজ করার কথা বলে আরো দুটি চক্রের সদস্যদের ট্রলার প্রতি ট্রিপে ২শ থেকে ৩শ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। অন্যদিকে দৈনিক চুক্তিত্বে গেলে সেইভ প্রতিটি দেড় থেকে দুই হাজার ও বোমা মেশিনের জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।
কারা চাঁদা তুলছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল মাহরাম নদীর চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী ও বিতর্কিত এসআই একেএম জালাল উদ্দিনের (অলিখিত নিয়োগ প্রাপ্ত) নোয়াজ আলীর ভাই পুলিশের সোর্স তাজু এবং তার সহযোগী অপর ১৮ সদস্য। অপরদিকে জাদুকাঁটা নদীতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করছে ঘাগটিয়ার আলীম উদ্দিন ও তার অপর ৬ সহযোগী।
বড়দল উত্তর ইউপি সদস্য নোয়াজ আলীর নিকট সোমবার বেলা দেড়টার দিকে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ও আমার ভাই নদীর ধার ধারিনা’ কোন চাঁদাবাজির সাথে আমরা জড়ি না’ এইত্যা কেলায় (কে?) বলে, আমরা কী এই ধরণের মানুষ, নদীর দিকে ফিরেও তাকাইনা, যারা চাঁদাবাজি করে তাদের পুলিশ ধরুক।’
বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের আলীম উদ্দিন সোমবার বলেন, আমি গত কোরবানীর ঈদের পর নদীতে যাইনা।’ বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই একেএম জালাল উদ্দিন স্যার নিজেই দিন রাত নদীর তীরে থাইাক্যা লোক দেখানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করে উনির নিজের সোর্স দিয়ে চাঁদা আদায় করাতেন। সে আরো বলে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে এএসআই বিপুল কুমার সিনহা নদীতে ছিলেন, উনি থাকা কালীন সেইভ ড্রেজার চলেনি, তিনি চলে যাবার পর আবার আদর্শগ্রাম ও বড়টেকের মাথায় এগুলো চালু হইছে, যতদুর জানি ঘাগটিয়া কাইকর পাড়ার শামু, ঘাগটিয়ার ছাক্তার, আমিরুল এখন নদীতে পুলিশের নামে চাঁদা তোলে।’
এসআই একেএম জালাল উদ্দিনের নিকট নদীর চাঁদাবাজি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি এখন বাদাঘাট ফাঁড়ি থাইক্যা থানায় চলে আইছি, আমি কোন চাঁদাবাজির সাথে পুর্বেও জড়িত ছিলাম না, এখনও না।’ পরবর্তীতে তিনি বলেন, দাদা আমি গাড়িতে আছি, ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর সোমবার বেলা ২টায় এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি নবাগত হিসাবে সম্প্রতি এ থানায় যোগদান করেছি, চাঁদাবাজদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব। ’
Related News
ছাতকে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ‘মুল্লা’ ছালেক কারাগারে
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছালেক আহমদ (৪৮)Read More
তাহিরপুরে মাদক সেবনের অভিযোগে কৃষকদলের দুই নেতা আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদক সেবন ও মাতলামি করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে উপজেলাRead More



Comments are Closed