Main Menu

ম আ মুক্তাদির- আমাদের চে গুয়েভারা

ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন: কৈশোরে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন দেশ মাতৃকার জন্য। কলেজের ছাত্র ছিলেন একাত্তরে। বাংলার মানুষের স্বাধীনতার ডাক আসলে, বাবা মায়ের কনিষ্ট সন্তান বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। অস্ত্র আর যুদ্ধ- তাঁর কৈশোর কেড়ে নিয়েছিল। মুক্তি আর শৃংখল ভাঙার আহ্বানে মায়ের আচল ছেড়েছিলেন। সেই ম আ মুক্তাদির আর ঘরে ফেরেননি। সদ্য স্বাধীন দেশে বঞ্ছিত মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে সামিল হয়ে গেলেন। সারা বিশ্বে তখন সমাজ পরিবর্তনের আহ্বান। দক্ষিন আমেরিকা থেকে নিকট ভারতের নকশালবাড়ী আন্দোলন। শোষন নিপীড়নের জন্য দায়ী পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান। এ আহ্বানে যোগ দেন আমাদের বিপ্লবি অগ্রজ ম আ মুক্তাদির।
স্বাধীনতা পরবর্তি নানা বিভ্রান্তি আর চড়াই উতরাই যখন চলছিল আমাদের তখন দ্রোহকাল। রাজপথেই পরিচয় অগ্রজ এই লড়াকুর সাথে। ব্যক্তিত্ব আর প্রজ্ঞায় যিনি সহজেই আমার মতো অনেককে আকৃষ্ট করতে পেরেছিলেন। আমাদেরও ধ্যানে জ্ঞানে তখন বিপ্লবের আহ্বান। মার্ক্সস, লেলিন আর মাও পাঠে তখন আমরা নিবিষ্ট। ফিদেল ক্যাস্ট্রো আর বিপ্লবি চে গুয়েভারের কাহিনীতে রোমাঞ্চের সময়কাল। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ম আ মুক্তাদির তখন এক সার্বক্ষণিক বিপ্লবি। আমাদের বস্তুবাদ পাঠের অনুপ্রেরণা দেন। সমাজ বিশ্লেষনে বিজ্ঞান ভিত্তিক সুত্র ধরিয়ে দেন।
সিলেটের সুরমা নদীর তীর ঘেষা বাড়িতে অসুস্থ বাবা মা ছিলেন। তাদের দেখতে যেতেন কদাচিৎ। বছরের পর বছর দেখেছি, ম আ মুক্তাদিরের কোন স্থায়ী আবাস ছিল না। কখনো কমরেডদের সাথে, কখনো শুভানুধ্যায়ীদের বাড়িতে ছিল তাঁর ঠিকানা। খেয়ে, না খেয়ে কেটেছে দিনের পর দিন। কপর্দকহীন ম আ মুক্তাদির ছিলেন নির্বিকার। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মুক্তাদির ছিলেন দালাল রাজাকারদের ত্রাস। রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহন করেননি কখনো। সত্তর এবং আশির দশকে সিলেট অঞ্চলে এক সম্ভাবনাময় সংগঠক হয়ে উঠেছিলেন ম আ মুক্তাদির। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ছাত্র যুব সমাজের দ্রোহের মিছিলে যোগ দেন। ৭২ সাল থেকেই তৎকালীন জাসদ ছাত্রলীগের নানা পর্যায়ে নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৮০ সালে আদর্শিক বিতর্কে জাসদ বিভক্ত হলে, বাসদ গঠনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র ,যুবক থেকে কৃষক শ্রমিক পর্যন্ত সাঙ্গঠনিক কাজে দিন রাত ব্যস্ত থাকতেন মুক্তাদির। সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে, ক্রীড়াঙ্গনে ছিল যার অবাদ যাতায়াত। সাংবাদিকতাও করেছেন কিছুদিন। সর্বত্র গ্রহনযোগ্য এক মেধাবী ব্যক্তিত্ববান সুদর্শন মুকতাদির হয়ে উঠেছিলেন সিলেট অঞ্চলের এক সর্বজন গ্রাজ্য সংগঠক হিসাবে।
দেশে সামরিক শাসন শুরু হলে ম আ মুক্তাদিরকে দীর্ঘ কারাবাসে থাকতে হয়। বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তন ঘটে। সমাজতান্ত্রিক শিবিরগুলোতে শুরু হয় নানা বিতর্ক এবং সংশয়। বোহেমিয়ান ম আ মুক্তাদিরকে তখন সিলেটের রাজনৈতিক পরিবার থেকেই সংসারী করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এক জন্ম বৃটিশ তরুণীর সাথে তাঁকে বিয়ে দেয়া হয় অনেকটা আয়োজন করেই। কপর্দকহীন ম আ মুক্তাদিরকে গ্রেফতার বরণ করতে হয় নব বিবাহিতা স্ত্রীর পাশ থেকেই। এক মামলায় জামিনে আসেন, আবার অন্য মামলায় জড়ানো হয়। এর মধ্যে জন্ম বৃটিশ নববধূ লন্ডনে চলে যান। সংসার রক্ষার জন্য এবং কিছুদিন সরে থাকার জন্য লন্ডন চলে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন রাজনৈতিক অভিবাবকরা।
%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%aa১৯৮৬ সালের এক মধ্য দুপূরে ম আ মুক্তাদির হুলিয়া মাথায় নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রিয় শহর ছাড়ার সময়টিতেও ছাত্র সংঘর্ষ চলছিল। দলের নেতা কর্মীরা হামলায় আহত, হাসপাতালে। পুলিশের তল্লাসী চলছে। সিলেট রেল স্টেশনের আউটার সিগনালে দাঁড়িয়ে হাতটা চেপে ধরে বলেছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই চলে আসব। ফিরে আসা হয়নি তাঁর । ১৯৯৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪৪ বছর বয়সে জীবনের সব সংগ্রামের ইতি টানেন ম আ মুক্তাদির।
মাতৃভুমি ছেড়ে লন্ডনে গিয়ে বিপাকেই পড়তে হয় ম আ মুক্তাদিরকে। চিন্তায়, সংস্কৃতিতে বিস্তর ফারাক নারীর সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা, লড়াকু ম আ মুক্তাদির সংসার যুদ্ধে সহজেই হেরে গেলেন। লন্ডনে যাওয়ার পর ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। শিশু সন্তানকে রেখেই স্ত্রী তাঁকে ত্যাগ করে চলে যান। চরম বেকায়দায় পড়েন মুক্তাদির। একদিকে সজনহীন পরিবেশে শিশু সন্তানকে মা ছাড়া লালন পালন করা। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে বসবাসের বৈধতাও ছিল না তাঁর। কাজ কর্মহীন মুক্তাদিরের লন্ডন অধ্যায় ছিল আরো সংগ্রামের। শিশু সন্তানকে আগলে রেখে এক সময় অবলীলায় সক্রিয় হয়ে উঠেন লন্ডনে বাংলাদেশী কমিউনিটির নানাসব কর্ম যজ্ঞে। দেশের বাড়িতে অসুস্থ বাবা মা, ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়া রাজনীতির সহযোদ্ধাদের নিয়ে মানসিক পীড়নে পড়েন ম আ মুক্তাদির। এরমধ্যে বাবা মারা যান। বিয়ে বিচ্ছেদ পরবর্তী সামাজিক এবং আইনি জটিলতায় ব্যক্তিগত জীবনে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে। সক্রিয় থাকেন লন্ডনে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে। যুক্তরাজ্যে বাম রাজনীতিতে আবার ঝাপিয়ে পড়েন অবলীলায়। বাংলাদেশীদের নিত্যদিনের সাংগঠনিক কাজ কর্মের অবধারিত সংগঠকে পরিণত হন। যুক্তরাজ্যের নাগরিক অধিকার আন্দোলনে প্রগতিশীল ধারার সাথে একাত্ব হয়ে যান। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ম আ মুক্তাদির চিন্তায় ও মননে কাছাকাছি আসেন অন্য এক নারীর। বেশ ঘটা করে দ্বিতীয়বারের মতো সংসারী হওয়ার উদ্যোগ নেন। টেমস নদীতে জাহাজ ভাসিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের উৎসব করেন লন্ডনে তাঁর অনুরাগীরা। সেই স্ত্রীর গর্ভে আরেক সন্তানের জন্মের দুই সপ্তাহ পরই মারা যান ম আ মুক্তাদির। নানা অপ্রাপ্তির তীব্র বেদনা নিয়ে সমাজ বদলের এক মাঠ সংগঠক হয়তো ব্রতি হয়েছিলেন নিজের জীবনটাকে একটুখানি বদলাতে। তা আর হয়ে উঠেনি।
১৯৯৫ সালে দেশ ছেড়ে পশ্চিমমূখী হওয়ার যাত্রা পথে লন্ডনে থেমেছিলাম। উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেছিলেন। যার সান্নিধ্যে যৌবনের দ্রোহ কালের ধিক্ষা হয়েছিল, সেই অগ্রজ কমরেডকে পেয়েছিলাম আবারো দিন কয়েকের জন্য একান্ত সান্নিধ্যে। ছিন্ন ভিন্ন হওয়া সহযোদ্ধাদের কথা, রাজনীতির নানা ভূল আর ভ্রান্তি নিয়ে অনুতাপের কথা বলেছিলেন। ঘাতক দালাল আর রক্ষনশীলদের উত্থানে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ ছিল তাঁর মধ্যে।
যাবেন না দেশে? এমন প্রশ্নের উত্তরে চোখের কোনে ঝিলিক দেখেছিলাম। একজন সত্যিকারের বিপ্লবী তাঁর ভেঙ্গে পড়া আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না। অনেকক্ষণ নীরব থেকে বলেছিলেন, তোমরাও তো দেশটা ছেড়ে দিলে! বুকে হাহাকার উঠেছিল। বলেছিলাম, আমরা আবার ফিরবো। না, ফিরা আর হয়নি আমার এবং আমার মতো অনেকের।
ম আ মুক্তাদির ফিরেছিলেন। কফিনে করে। সিলেটের মানুষ স্মরণকালের অন্তিম অভিবাদন জানিয়েছিল শান্ত শহরের এক অশান্ত বিপ্লবীর অকাল মৃত্যুর পর। সুরমা পারে নিজের বাড়ি সংলগ্ন কবরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। কবরের দিকে চেয়ে চেয়ে মা’ও মারা গেলেন একদিন। যে সড়ক পথ দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে কিশোর মুক্তাদির ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন, সড়কটির পাশেই তাঁর কবর। যে সুরমা নদী পেরিয়ে সমাজ বদলের স্বপ্নে ম আ মুক্তাদির বেরিয়েছিলেন, সেই নদী আজো বহমান । তীরের কবরে শুয়া স্বপ্নচারী মানুষটির অনেক অকথিত উচ্ছ্বাস আর বেদনার সাক্ষি হয়ে সুরমায় আজো জোয়ার ভাটা আসে। মানুষের নিত্যদিনের সংগ্রামের আকুতি আজো ধারন করে উর্বর পলিমাটি।
মৃত্যুর বাস্তবতা বড় নিষ্টুর। বড় বেদনার। মানুষটি তাঁর কৈশোর থেকে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছিল দিয়েছিলেন জনগনের জন্য। লন্ডনে বাংলাদেশীদের উত্থানের সময়ে বাংলা টাউন হিসাবে এলাকা চিহ্নিত করা হবে। কমিউনিটির মধ্যে উৎসব আনন্দ। এ নিয়ে চলছিল নানা দলাদলি, কোন্দল। ম আ মুক্তাদির সবকিছু সামাল দিয়ে বাংলা টাউনের উদ্বোধনে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অনুষ্টানেই তিনি জ্ঞান হারান। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরও রক্ষা করা যায়নি। দেশের মানুষের কর্মচাঞ্চল্যের মধ্যে থেকেই যেন চলে গেলেন অন্তিম অজানায়।
ম আ মুক্তাদিরের মৃত্যুর পর কিছুদিন ছিলেন অনুরাগী সতীর্থদের আক্ষেপ আর বেদনার নিঃশ্বাসে। সময় বড় নিষ্টুর। আমরা আর কেউ খুঁজ রাখিনি। সবাই নিজের জীবন যুদ্ধের হিসাব মিলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়া জীবাণারণ্যে আমরা যেন হারিয়ে যাই। ব্যক্তিজীবন, সমাজ জীবনের হিসাবটাও সময়ে পাল্টে যায়। যে দেশে, যে সমাজে এক স্বপ্ন বিলাসী মানুষ তাঁর জীবনের সর্বস্ব দিয়ে গেলেন, তাঁকে কেউ আর মনে করে না। বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রও এগিয়ে আসেনি। বাড়ির পাশের সড়কটির নামকরণের দাবি উঠেছিল, তাও সফল হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে, তাদের কল্যান নিয়ে সদা তাঁকে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। মুক্তিযোদ্ধারা সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করেন। বেশ ক’বছর আগে দেশে গিয়ে পুরনো কমরেডদের নিয়ে কবর খোঁজতে গিয়েছিলাম। সবুজে ঢাকা বাড়ির পাশে কবর খুঁজতে গিয়ে বিভ্রমে পড়ি। একটি নাম ফলকও ঝুটেনি রাষ্ট্র থেকে। কোন প্রতিষ্টান, কোন সহযোদ্ধা কেউ এগিয়ে আসেননি। যেন কার দায় পড়েছে এক হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন বিলাসীকে মনে রাখার!
muktadir1স্ত্রী সন্তান রেখে দূর দেশের রাজপথেই ছিল ম আ মুক্তাদিরের শেষ দিন। যাদের কর্মচাঞ্চল্যে জীবনের অন্তিম সময়েও সক্রিয় ছিলেন, তারাও মনে রাখেননি। স্ত্রী সন্তানদের খবর পর্যন্ত আজ আর কেউ জানে না। সময়টা বড় নিষ্টুর। বাস্তবতা বড় নির্মম।
মৃত্যুর ১৯ বছর পর সহযোদ্ধা কমরেড শাহাব উদ্দিন উদ্যোগী হয়েছেন। দুই দশক পড়ে দেশে গিয়ে স্মৃতি সংসদ করা হয়েছে। কবরে নামফলক লাগানো হয়েছে। এখনো যারা সমাজ নিয়ে, মানবিকতা নিয়ে কাজ করেন- তাদের সম্পৃক্তি ঘটেছে স্মৃতি সংসদে। এ প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোম নিয়েছেন প্রাক্তন কিছু সহ যোদ্ধা। এরমধ্যে ডাঃ মইনুল ইসলাম, রফিকুল হক, লোকমান আহমেদ, এম এ মান্নান, এডভোকেট শহিদুল ইসলাম শাহীন, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, সাব্বির আহমেদ এবং এম এ মুক্তাদিরের সহোদর চুনু। প্রায় হারিয়ে যাওয়া আমাদের স্বপ্ন বিলাসের সাথী ম আ মুক্তাদিরের প্রতি স্মৃতিময় শ্রদ্ধা। সিলেট থেকে নিউইয়র্ক এবং লন্ডনে তাঁর স্মৃতি রক্ষার জন্য উদ্যোম শুরু হয়েছে নতুন করে। নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম খান, তফাজ্জল করিম, সুব্রত বিশ্বাস এবং লন্ডনে গয়াসুর রহমান, আব্দুল মালিক খোকন, সোহেল আহমেদ, শওকত আহমেদ, বদরুল আলম খান পাপ্পু সহ অনেক সতীর্থ যোগ দিয়েছেন প্রায় বিস্মৃত হওয়া ম আ মক্তদিরের স্মৃতির পুণর্বাসনে।
আমাদের চে গুয়েভারা ম আ মুক্তাদির প্রায়ই বলতেন, বিপ্লবীরা নিঃশেষ হয় না। পরিবর্তনের এ সময়ে আজকের অনেকের ধারনায় নেই সেই সময়টা কেমন ছিল? কতটা উত্তাপ ছিল মনের গহীনে। ম আ মুক্তাদির আমাদের কিউবার, ভলিভিয়ার সমাজ বদলের গল্প শুনাতেন। ক্যাস্ট্রো আর চে গুয়েভারের আলাপে সবপ্নের জাল বুনতেন।
দ্রোহকালের অগুনতি স্মৃতির ভীড়ে ব্যক্তিগত বেদনার উচ্চারণে আজ বলতে চাই, তোমার স্মৃতি অমর হোক মুক্তাদির ভাই।তুমি আমাদের প্রথম যৌবনের চে গুয়েভার ছিলে। মরে গিয়ে তুমি নিঃশেষ হয়ে যাওনি। যে যেখানে আজো লড়ে যায়, সে তো তোমার আমার লড়া। প্রতিটি মুক্তির মিছিলে তুমি আছো, যেমন করে ছিলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক। ম আ মুক্তাদিরের ঘনিষ্ট সহযোগী এবং সহযোদ্ধাদের অন্যতম।

Share





Related News

Comments are Closed