সাত বছরের শিশুকে ইয়াবা আসক্ত দুই কিশোরের গণধর্ষণের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত গ্রামে দরিদ্র পরিবারের সাত বছর বয়সি এক শিশুকন্যা ইয়াবা আসক্ত দুই কিশোরের গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানায় আইনি সহায়তা না নিতে ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাঁধা দিয়েছেন জড়িত এক কিশোরের মা এবং স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক।
গণধর্ষণে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার সীমান্ত গ্রাম কলাগাঁও থেকে চিকিৎসাসেবা ও আইনি সহায়তা পেতে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে গণধর্ষণের শিকার শিশুকন্যাকে।
শনিবার বিকেলে এমন তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলার কলাগাঁও সীমান্তের সমাজ উন্নয়নকর্মী মোর্শেদ আলম সাদ্দাম, খুর্শিদ আলম সহ একাধিক মানুষজন ও ভিকটিম শিশু কন্যার পরিবার।
শনিবার বিকেলে উপজেলার সীমান্ত গ্রাম কলাগাঁও পশ্চিম পাড়ার ভিকটিম শিশুকন্যার নানী, মামা জানান, গেল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধায় প্রতিবেশী পরিবারের ইয়াবা আসক্ত দুই বখাটে কিশোর মজনু, কামাল (ছদ্দনাম) দরিদ্র পরিবারের সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে ফাঁকা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী বাড়ির টয়লেটের ভেতর আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।
এরপর বাড়ি ফিরে ওই শিশুকন্যা ধর্ষণের ঘটনাটি পরিবার,পাড়া প্রতিবেশীদের অবহিত করে। গণধর্ষণে ভিকটিমের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ভিকটিমকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না দিয়ে এক ধর্ষণকারি কিশোরের মা শুক্রবার সন্ধায় স্থানীয় বাজারে পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজের নিকট নিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধের ঔষধ আনিয়ে সেবন করতে দেন।
এরপর ওই পল্লী চিকিৎসক গণধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে ইজ্জত যাবে, থানায় গিয়ে অভিযোগ না করতে বাঁধা দিয়ে বিচার সালিসে সমাধান করার জন্য ভিকটিমকের পরিবারকে চাঁপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
গণধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভিকটিমের চিকিৎসাসেবা গ্রহন না করায়, থানায় আইনি সহায়তা নিতে বিলম্ভের কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন, ঘটনা জানাজানি না করতে এ গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ইয়াবা আসক্ত কিশোরদ্বয়কে রক্ষায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না নিতে এবং থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা না নিতেও বাঁধা দিয়ে চাঁপ সৃষ্টি করেন গণধর্ষণে জড়িত এক কিশোরের মা ও উপজেলার কলাগাঁও সীমান্ত বাজারের পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজ।
শনিবার সন্ধায় উপজেলার সীমান্ত বাজার কলাগাঁও’র পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ ওরফে বুরুজের নিকট তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও চিকিৎসা সেবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য এক শিশু কন্যার চিকিৎসা সেবা দিয়েছি, গণধর্ষণ হয়েছে কি না জানিনা, আমি ভিকটিমের পরিবারকে থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা না নিতে কোন বাঁধা দেইনি।
শনিবার সন্ধায় তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম শিশুকন্যা থানায় রয়েছে, গণধর্ষণের ঘটনাটির তদন্ত কাজ চলমান ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Related News
সাত বছরের শিশুকে ইয়াবা আসক্ত দুই কিশোরের গণধর্ষণের অভিযোগ
Manual5 Ad Code বিশেষ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত গ্রামে দরিদ্র পরিবারের সাত বছর বয়সি একRead More
দিরাইয়ে ট্রাকের ধাক্কায় ইটভাটা ম্যানেজার নিহত
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ইট পরিবহনকারী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কেরRead More



Comments are Closed