Main Menu

মালয়েশিয়ায় ১৫ এপ্রিল থেকে চালু হচ্ছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকার সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অফিসগুলোতে এয়ারকন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ।

Manual2 Ad Code

ফাদিল্লাহ, যিনি জ্বালানি রূপান্তর ও পানি রূপান্তর মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিৃতিতে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। সরকারি কর্মচারীদের স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী পোশাক যেমন বাটিক, কর্পোরেট শার্ট বা বাজু মেলায়ু পরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলো সরকারের দায়িত্বশীল জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে আমরা একাধিক শক্তি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

এরই ধারাবাহিকতায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সরকারি খাত ও সরকার-সংযুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (বাড়ি থেকে কাজ) নীতি চালু করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি ব্যবহার কমানো, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের খরচ হ্রাস করা এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে টেকসই রাখা।

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের অফিসে যাতায়াত কমানো গেলে যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা হ্রাসে সহায়ক হবে। পাশাপাশি অফিস ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমবে, কারণ কমসংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকলে বিদ্যুৎ খরচও কম হবে।

ফাদিল্লাহ ইউসুফ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Manual5 Ad Code

তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা জ্বালানি বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এই প্রণালীটি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের একটি প্রধান পথ হওয়ায় এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ে।

ফাদিল্লাহ আরও বলেন, আমরা এখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার একটি কঠিন সময় পার করছি। জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিটি দেশের ওপরই প্রভাব ফেলছে।

উন্মুক্ত অর্থনীতির দেশ হিসেবে মালয়েশিয়াও এই বৈশ্বিক সংকটের বাইরে নয় বলে তিনি সতর্ক করেন। তাই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো হবে সুসমন্বিত, বাস্তবমুখী এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় পরিকল্পিত। একই সঙ্গে জনগণের উদ্বেগ ও আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে।

Manual8 Ad Code

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতিমালা গ্রহণ শুধু সাময়িক সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে এ ধরনের উদ্যোগ বেসরকারি খাতকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সবমিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া সরকারের এই পদক্ষেপগুলো একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Manual5 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code