হঠাৎ আজহারীকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় হিটলারের প্রশংসা করার অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ডেইলি মেইল।
মিজানুর রহমান আজহারীর ঘটনাটি সর্বপ্রথম ডেইলি মেইল প্রকাশ করেছে। যার অনলাইনে ১০ মিলিয়ন অনুসারী রয়েছে এবং যিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা প্রবাসী সম্প্রদায়গুলোতে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন।
বাংলাদেশি এই বক্তা তার ‘বিশ্বাসের উত্তরাধিকার’ সিরিজের অংশ হিসেবে ইস্টার উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া সফর করছিলেন, যার মধ্যে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় যাত্রাবিরতি ছিল।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আজহারীর ভিসা বাতিল করা হয়। তিনি এখন প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে, আজহারি হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘোষণা করেছেন যে ‘ইহুদিরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং তাদেরকে ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন যে, এইডসসহ বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ইহুদিরাই দায়ী এবং অভিযোগ করেন যে, তারাই এই রোগটি আবিষ্কার করেছে।
এদিকে, লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বুধবার সকালে জানান, আজহারির আগমন সম্পর্কে তাকে এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন গোষ্ঠী সতর্ক করেছিল।
‘আমি জানি, মন্ত্রী নিজেসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে যোগাযোগ পেয়েছেন।’ তিনি বুধবার সিনেটে বলেন।
তার বক্তৃতা সফর গত সোমবার রাতে ব্রিসবেনে শুরু হয়েছে এবং এটি ৩ এপ্রিল মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল সিডনি এবং ৬ এপ্রিল ক্যানবেরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মিজানুর রহমান আজহারী।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির আমন্ত্রণে গত ৫ দিন ধরে আমি অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছি। আমার সফর নিয়ে যে সংবাদটি ছড়িয়েছে, তা বিদেশি একটি প্রতিবেদনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা। ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্যকে দায়ী করা সম্পূর্ণ অসত্য— কারণ এখনো পর্যন্ত আমি এখানে কোনো বক্তব্যই দিইনি। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজেই যাচাইযোগ্য।
তিনি আরও লিখেন, বিভিন্ন দেশে বক্তাদের সফর ঘিরে চাপ বা প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয়; আমার ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটেছে। কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল ও নাস্তিক্যবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে একজোট হয়ে— পুরনো, বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে তুলে এনে প্রসাশনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। একই ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে যেমন যুক্তরাজ্যেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
আজহারী লিখেন, অথচ আমি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (Communal Harmony) এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান (Religious Coexistence)-এ বিশ্বাসী। আমার বহু আলোচনাতেও যা স্পষ্ট প্রতীয়মান।
Related News
বাংলাদেশিসহ বিদেশি পর্যটকদের বড় সুখবর দিল আরব আমিরাত
Manual5 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সংযুক্তRead More
হরমুজের পর এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধের উদ্যোগ ইরানের
Manual6 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পর এবার বিশ্বেরRead More



Comments are Closed