Main Menu

ঢাকায় ব্যাংকের ১১ কোটি টাকা ছিনতাই, তাহিরপুরে আসামী গ্রেপ্তার

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার তুরাগ এলাকায় ‘ডাচ-বাংলা ব্যাংকের’ টাকা বহনকারী গাড়ি থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত থাকা ছিনতাই মামলার পলাতক আসামি মো. জনি মিয়া (৩৫) কে তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা হতে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টায় উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ট্যাকেরঘাট থেকে আটক করা হয়। আটককৃত জনি মিয়া একই ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের গনি মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে ট্যাকারঘাট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. রিপন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম বড়ছড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনের থাকা জনি মিয়াকে আটক করে।

টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. রিপন উদ্দিন জানান, তুরাগ থানার মামলা নং ১০(৩) ২৩ (ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৪১২/৩৫ পেনাল কোড) অনুযায়ী ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই আটককৃতকে আসামীকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তাহিরপুর থানার (ওসি) আমিনুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৯ মার্চ রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আলোচিত এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর তুরাগ থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পায় মিরপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বিভাগ।

মানি প্ল্যান্ট লিংক লিমিটেড নামের একটি সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে করে ওই টাকা বহন করা হচ্ছিল। বুথে টাকা লোড করতে ঢাকা থেকে সাভার ইপিজেডে যাচ্ছিল গাড়িটি। পথে একদল ছিনতাইকারী একটি মাইক্রোবাস আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা বহনকারী গাড়িটি থামায়। এরপর মাইক্রোবাস থেকে ১২ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী ফিল্মিস্টাইলে নেমে গাড়ির দরজা অস্ত্রের মুখে খুলে ফেলেন। ছিনতাইকারীদের একজন নিজেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয় দেন। মানি প্ল্যান্টের কর্মীদের চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মেরে টাকাভর্তি চারটি ট্রাংক ছিনিয়ে নিয়ে বীরদর্পে সটকে পড়েন।

ওই মামলায় ইতোপুর্বে ১৩ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের ১২ জনই আদালতে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যেও ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, ছিনতাইয়ের ২০ লাখ টাকায় কেনা একটি বিলাসবহুল চার চাকার গাড়ি।

ওই মামলায় চার্জশিটভুক্ত পলাতক দুই আসামির মধ্যে জনিকে মঙ্গলবার রাতে তাহিরপুর থানার ট্যাকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্সদের নিয়ে গ্রেফতার করেন।

২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ডাচ-বাংলার সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাই ঘটনায় জড়িত ১৫ ছিনতাইকারির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে  চার্জশিট (অভিযোগ) দাখিল করেছেন মিরপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বিভাগের তদন্তকারী অফিসার।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed