মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ কে খন্দকার মারা গেছেন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক, ‘কিলো ফ্লাইট’-এর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, বীর উত্তম ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৬ বছর।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক কন্যা ও তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন এ মুক্তিযোদ্ধা।
এর আগে, গত ৮ জুন ঢাকার সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এ কে খন্দকারের সহধর্মিণী ফরিদা খন্দকার।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হলে তার প্রধান হন এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১১ সালে স্বাধীনতা পদক পান তিনি। এছাড়া, পেয়েছেন বীরউত্তম উপাধি।
এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি। পিতার তৎকালীন কর্মস্থল রংপুর শহরে। তার বাড়ি পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ভারেঙ্গা গ্রামে। তার পিতা খন্দকার আব্দুল লতিফ ব্রিটিশ আমলে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং মাতা আরেফা খাতুন ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে এ কে খন্দকার ছিলেন তৃতীয়। পিতার চাকুরির সুবাদে তার শিক্ষা জীবনের শুরু হয় বগুড়া শহরে। তিনি সেখানে বগুড়া করোনেশন স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করেন।
ভারত বিভাগের সময় এ কে খন্দকার ১৯৪৭ সালে মালদা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।
১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে পিএএফ (পাকিস্তান বিমান বাহিনী) থেকে তিনি তার কমিশন (পাইলট অফিসার পদ) লাভ করেন।
১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফাইটার পাইলট হিসেবে কাজ করেন ও পরে ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হয়ে ওঠেন। তিনি পাকিস্তান এয়ার ফোর্স একাডেমিতে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুলে তিনি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে তিনি ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৬০ সাল পর্যন্ত। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন পিএএফ একাডেমি।
পরে জেট ফাইটার কনভারশন স্কোয়াড্রনে তিনি স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত। ট্রেনিং উইং-এর অফিসার কমান্ডিং হিসেবে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি পিএএফ একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। পিএএফ প্ল্যানিং বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ১৯৬৯ সালের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পিএএফ বেইসের দায়িত্ব পান ঢাকায় ১৯৬৯ সালে।
এ কে খন্দকার উইং কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ হন। ২১শে নভেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি পদোন্নতি পান গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার থেকে এবং জেনারেল এম এ জি. ওসমানী’র ব্যক্তিগত ডেপুটি ইন চার্জ বা উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবেও নিয়োগ পান।
Related News
ইতালির বন্দরে বিমানের ফ্লাইট বিকল, আড়াইশ যাত্রী আটকা
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ইতালির রোম বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে দীর্ঘ সাতRead More
প্রথম শ্রেণিতে ফিরছে লটারিতে ভর্তি, বাকি সব পরীক্ষায়
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে আবারও লটারিপদ্ধতি চালু রাখার সিদ্ধান্তRead More



Comments are Closed