Main Menu

৪০ ফুট গর্তে পড়ে গেল শিশু সাজিদ, উদ্ধার কাজ চলছে

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে (বোরিং) আটকে থাকা শিশু সাজিদকে উদ্ধারে টানা কাজ করে চলেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ইতিমধ্যে তিনটি এক্সকাভেটর দিয়ে পাশে ৪০ ফুট গভীর একটি গর্ত করে প্রাথমিক কাজ শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে মূল গর্ত পর্যন্ত পৌঁছতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে মায়ের পেছন পেছন হাঁটতে হাঁটতে শিশু সাজিদ হঠাৎ পরিত্যক্ত একটি টিউবওয়েলের ৪০ ফুট গর্তে পড়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তারা ব্যর্থ হলে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

আজ শিশুটি যে গর্তের মধ্যে পড়ে যায় সেখানে সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। তবে এখনো দেখা মেলেনি সাজিদের।

শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, গতকাল দুপুর ১টার দিকে মেজো ছেলে সাজিদের হাত ধরে বাড়ির পাশের মাঠে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় তার কোলে ছোট একটি সন্তান ছিল।

হাঁটার সময় আচমকা সাজিদ মা বলে ডাকে। তখন তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন—ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে মা, মা বলে ডাকছে। গর্তটির ওপরে বিছানো ছিল খড়। ওখানে যে গর্ত ছিল, সেটা তিনি বা ছেলে কেউই বুঝতে পারেনি। লোকজন ডাকাডাকি করতে করতেই ছেলেটি গর্তের তলায় চলে যায়।

মাত্র ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সেই সংকীর্ণ গর্তে আটকা পড়া ছোট্ট শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমদিকে তানোরে প্রয়োজনীয় এক্সকাভেটর না পাওয়ায় উদ্ধারকাজে দেরি হয়। রাত ৮টার দিকে পাশের মোহনপুর থেকে দুটি ছোট এক্সকাভেটর এনে মাটি খনন শুরু করা হয়। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে আরও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এক্সকাভেটর ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ দ্রুততর করে।

তানোর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আব্দুর রউফ জানান, প্রথমে উপজেলায় এক্কাভেটর না পাওয়া গেলেও মোহনপুর থেকে এনে মাটি সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হবে।

স্থানীয়রা বলেন, যদি প্রথম থেকেই বড় এক্সকাভেটর নিয়ে কাজ শুরু করা যেত, তবে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করা যেত।

তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব সংকর বসাক জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। উদ্ধার কাজে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক।

 

Share





Related News

Comments are Closed