ছাতকে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই গ্রামে সংঘর্ষ, ১৫ জন আহত
ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং একাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইছামতী বাজার এলাকায় লুবিয়া ও বনগাঁও গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান ও এলসির চুনাপাথর পরিবহন ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে রাতেই হাতাহাতি এবং পরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতভর অন্তত তিন দফায় হামলা-পাল্টা হামলা চলে। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা, দা, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে বনগাঁও গ্রামের মানিক মিয়া এবং লুবিয়া গ্রামের দিলোয়ার হোসেন ও মুক্তার হোসেনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হলেও তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সংঘর্ষ চলাকালে ইছামতী বাজার এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বাজারের অন্তত পাঁচটি দোকান ভাঙচুর করে মালামাল লুট করা হয়। সংঘর্ষকারীরা বাজারের ব্রিজ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং ডিজেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দু’পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। বনগাঁও গ্রামের খলিফা ফজল করিম দাবি করেন, “লুবিয়া গ্রামের কামরুজ্জামানের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা বাজারে গিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।” অপরদিকে, কামরুজ্জামান বলেন, “বনগাঁও গ্রামের ফজল করিমের অনুসারীরাই আগে হামলা চালিয়েছে। আমাদের লোকজন আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা প্রতিরোধ করেছে।”
এ ঘটনায় বনগাঁও গ্রামের আহত মানিক মিয়ার স্ত্রী সাহিমা বেগম শুক্রবার সকালে ছাতক থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও ১০–১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও পাথর ব্যবসা কেন্দ্রিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব চলছিল। প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা না থাকলে এমন সংঘর্ষ আরও বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারতো। বাজারের ব্যবসায়ীরা এখনও নিরাপত্তার আশ্বাস চাইছেন।
Related News
সুনামগঞ্জে ৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটিRead More
সুনামগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বাড়ির সামনের ডোবার পানিতে পড়ে কেয়াRead More



Comments are Closed