ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধের দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের উপর নেমে আসা অমানবিক উচ্ছেদ অভিযানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটি।
জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রমিকনেতা আবুল কালাম আজাদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন গত কিছুদিন থেকে রাষ্ট্রের পেটুয়া বাহিনী দিয়ে সিলেটের প্রশাসন স্বৈরাচারী পন্থায় রিকশা উচ্ছেদ অভিযানে নামেন যা অত্যান্ত ন্যাক্কারজনক। এ ধরনের কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন গত ৪ এপ্রিল/২০২২ উচ্চ আদালতের এক রায়ে মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হলেও আঞ্চলিক সড়কে ও শহরের মধ্যে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান চলাচলে কোন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়নি।
তৎকালীন আওয়ামী সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টাও স্বীকার করেন বিদ্যুৎ চালিত পরিবহন জ্বালানি তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপরন্তু বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা নিজে স্বীকার করেন হটাৎ করেই হাজার হাজার রিকশা শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান না করে উচ্ছেদ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
কিন্তু সম্প্রতি সিলেটের প্রশাসনের রিকশা উচ্ছেদের অভিযান হতাশাজনক। যে শহরের রাস্তায় শ্রমিকরা রাত্রি যাপন করে, রেল ষ্ট্রেশন, বাস স্টেশনে শত শত মানুষ বেঁচে থাকে সেখানে ডিজিটাল সিটি আধুনিক সিটির নামে শ্রমিক-নিন্মবিত্ত জনগনের সাথে তামাশা করা হচ্ছে। দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনা, বিদ্যুৎ অপচয়ের অজুহাত তুলে এই বাহনগুলো উচ্ছেদ অভিযান চলে। এই রিকশাগুলো তো কোনো শ্রমিক তৈরি করেনি; জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে কিনে জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্ঠা করছে।
যদি এই রিকশা অবৈধই হবে তাহলে কেন এগুলো বিক্রি করা হলো বা এখনও কেন বিক্রি করা হচ্ছে? আমদানিকারক প্রতিষ্টান ও শোরুমগুলোতে এসব বাহনের অবাধ বিক্রি চললেও সেখানে এখনও কেন নিয়ন্ত্রণ বা অভিযান নেই?
রাষ্ট্রের যেখানে কর্তব্য প্রত্যেক নাগরিকের কর্ম নিশ্চিত করা সেখানে কর্ম নিশ্চিত করতে ব্যর্থ রাষ্ট্র শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে। আশির দশক থেকে চলে আসা প্রাকৃতিক উপায়ে উত্তোলিত বারকি শ্রমিকদের জীবিকার একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ চিহ্নিত পাথর লুটপাঠকারীরা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শ্রমিকরা যখন কর্ম হারিয়ে হতাশ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করছে ঠিক তখনি একটি স্বার্থনেষি গোষ্টী অত্যান্ত পরিকল্পিতভাবে এক সেক্টরের শ্রমিকদের সাথে অন্য সেক্টরের শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ ঘটাতে সদা তৎপর। যার প্রতিফলন আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেখতে পাই।
শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ রাজপথ। সঠিক নেতৃত্ব ও সদা সচেতন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম অগ্রসর করে নিয়ে যেতে হবে। সকল শ্রমিক একে অপরের সহযোদ্ধা। কোনো ধরনের উস্কানীমূলক কর্মকান্ড এবং বক্তব্যে উৎসাহিত-প্ররোচিত না হয়ে জীবিকার তাগিদে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে সঠিক লক্ষ্যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম অগ্রসর করে নিয়ে যেতে হবে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ কোনো সমাধান নয়। ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের সঠিক নীতিমালা প্রনয়ণ করে শহরে অবৈধ ও যত্রযত্র পার্কিং বন্ধ, সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, রিকশা শ্রমিকদের জন্য স্ট্যান্ড নির্ধারণ করে দিলে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে এবং নিরীহ রিকশা-ভ্যান শ্রমিকদের জীবিকার উপর খড়গ হস্ত হতে হবে না।
নেতৃবৃনন্দ যানজট নিরসনে যত্রতত্র অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং রিকশা চলাচলে শহরে আলাদা লেন তৈরি করার দাবি জানান।
Related News
নিবন্ধনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধে এসএমপির আল্টিমেটাম
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা অনুসরণ না করে পরিচালিত নিবন্ধনবিহীনRead More
সিলেট ওভারসীজ সেন্টার ভাঙা ও লিজ গ্রহিতাদের উচ্ছেদে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টার ভবন ভাঙাRead More



Comments are Closed