Main Menu

জাকসুর ভিপি পদে ‘স্বতন্ত্র’ ও জিএস-এজিএস সহ ২১ পদে ‘ছাত্রশিবির’ নির্বাচিত

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশিদ জিতু (স্বতন্ত্র); জিএস পদে মাজহারুল ইসলাম (শিবির)’ এজিএস পুরুষ ফেরদৌস আল হাসান (শিবির); এজিএস নারী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা (শিবির)

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘোষিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জাকসুতে মোট পদের সংখ্যা ২৫টি। এর মধ্যে ভিপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জিততে পারেননি। জিএসসহ বাকি ২১টি পদেই বড় জয় পেয়েছে শিবিরের প্রার্থীরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে অনুষ্ঠিত হয় জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ওইদিন ভোট গণনা শুরু হয় রাত সোয়া ১০টায়। তবে ম্যানুয়ালি ভোট গণনা করায় ফল প্রকাশে এত সময় নিল নির্বাচন কমিশন।

তবে ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন বয়কট করেছেন ছাত্রদলসহ চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র পাঁচ প্রার্থী। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে একজন নির্বাচন কমিশনারসহ বিএনপিপন্থি চার শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন।

এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ২৫ পদের বিপরীতে প্রার্থী ১৭৭ জন। মোট ভোটার ১১ হাজার ৮৯৭ জন। এরমধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১১৫ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ জন। নির্বাচনে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এর চূড়ান্ত ফল:

সহ-সভাপতি (ভিপি): তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের আব্দুর রশিদ জিতু (স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্যানেল)

সাধারণ সম্পাদক (জিএস): ইংরেজি বিভাগের (৪৮তম ব্যাচ) মাস্টার্স শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)

সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্র (এজিএস): প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের (৪৯ ব্যাচ) মাস্টার্স শিক্ষার্থী ফেরদৌস আল হাসান (শিবির প্যানেল)

সহ-সাধারণ সম্পাদক এজিএস (ছাত্রী): দর্শন বিভাগের (৪৮ ব্যাচ) মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা (শিবির প্যানেল)

Manual2 Ad Code

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক: ফার্মেসি বিভাগের আবু উবায়দা উসামা (শিবির প্যানেল)

পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক: গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল)

Manual1 Ad Code

সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: ইংরেজি বিভাগের মো. জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি (শিবির প্যানেল)

সাংস্কৃতিক সম্পাদক: নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র)

সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক: উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো: রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল)

নাট্য সম্পাদক: নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের মো রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)

ক্রীড়া সম্পাদক: বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান কিরন (স্বতন্ত্র)

Manual4 Ad Code

সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী): গণিত বিভাগের ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল)

সহ-ক্রীড়া (ছাত্র): মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মহাদী হাসান (শিবির প্যানেল)

তথ্য প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক: ফার্মেসি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল)

সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক: আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস)

সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (ছাত্রী): ফার্মেসি বিভাগের নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল)

সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (ছাত্র): মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল)

Manual5 Ad Code

স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক: প্রাণিবিদ্যা বিভাগের হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল)

পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক: পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল)

কার্যকরী সদস্য

পুরুষ-১: মো. তরিকুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)

পুরুষ-২: মো. আবু তালহা (শিবির প্যানেল)

পুরুষ-৩: মোহাম্মদ আলী চিশতী (বাগছাস)

নারী-১: নাবিলা বিনতে হারুণ (শিবির প্যানেল)

নারী-২: ফাবলিহা জাহান (শিবির প্যানেল)

নারী-৩: নুসরাত জাহান ইমা (শিবির প্যানেল)

৩৩ বছরের প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত হওয়া জাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযেোগ ছাত্রদলসহ চারটি প্যানেল ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। নির্বাচনে মোট ২৫টি কেন্দ্রীয় পদে ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার ছিলেন প্রায় ১২ হাজার। ভোটগ্রহণ হয় ১১ সেপ্টেম্বর, ফল ঘোষণা শুরু হয় ৪৮ ঘণ্টা পর আজ ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এবার মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ।

জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। ছাত্রদের হলের মধ্যে আল বেরুনী হলে ভোটার ২১০ জন, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে ৩৩৩ জন, মীর মশাররফ হোসেন হলে ৪৬৪ জন, শহীদ সালাম-বরকত হলে ২৯৮ জন, মওলানা ভাসানী হলে ৫১৪ জন, ১০ নম্বর ছাত্র হলে ৫২২ জন, শহীদ রফিক-জব্বার হলে ৬৫০ জন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে ৩৫০ জন, ২১ নম্বর ছাত্র হলে ৭৩৫ জন, জাতীয় কবি নজরুল হলে ৯৯২ জন এবং তাজউদ্দীন আহমদ হলে ৯৪৭ জন ভোটার রয়েছেন।

ছাত্রীদের হলের মধ্যে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ২৭৯ জন, জাহানারা ইমাম হলে ৩৬৭ জন, প্রীতিলতা হলে ৩৯৬ জন, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৪০৩ জন, সুফিয়া কামাল হলে ৪৫৬ জন, ১৩ নম্বর ছাত্রী হলে ৫১৯ জন, ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ৫৭১ জন, রোকেয়া হলে ৯৫৬ জন, ফজিলাতুন্নেছা হলে ৭৯৮ জন এবং তারামন বিবি হলে ৯৮৩ জন ভোটার রয়েছেন।

এবার প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে লড়েছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ ও জিএস পদে আটজন প্রার্থী ছিলেন। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী ছিলেন না। একজন করে প্রার্থী ছিলেন ৬৭টি পদে। সে হিসাবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের মধ্য দুটি হলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code