সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর নেই
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বরুদ্দোজ্জা চৌধুরী মারা গেছেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (৫ অক্টোবর ) ভোররাতে উত্তরা বাংলাদেশ মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।
হাসপাতালে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার ছেলে মাহী বি চৌধুরী।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার বাবা ভোররাত ৩টা ১৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টেও এটি জানান মাহী।
এদিকে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলমও মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ২ মেয়ে এবং নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।’
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত বুধবার (২ অক্টোবর) সকালে বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন তার মেয়ে ডা. শায়লা চৌধুরী জানান যে, তার বাবা আগে থেকেই স্কিমিক হার্ট ডিজিজেস ভুগছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন ছেলে মাহী বি চৌধুরী। তিনি বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ বি. চৌধুরী ১৯৩০ সালের ১১ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে (প্রখ্যাত ‘মুন্সেফ বাড়ি) নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
দরুদ্দোজা চৌধুরী ১৯৪৭ সালে ঢাকার বিখ্যাত স্কুল সেন্ট গ্রেগরি থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৫৪-৫৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। সব পরীক্ষাতেই তিনি মেধা তালিকায় ছিলেন।
এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ লন্ডন, এডিনবার্গ ও গ্লাসগো থেকে নির্বাচিত ফেলো-এফ.আর.সি.পি এবং বাংলাদেশের (সম্মানিত) এফ সি পি এস। তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা।
১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। সেসময় তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমান সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদেও ছিলেন তিনি। তার বাবা অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী কৃষক প্রজা পার্টির সহ-সভাপতি, যুক্তফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে একই বছরের ১৪ নভেম্বর বিএনপির মনোনয়নে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর ২০০৪ সালের ৮ মে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তার সহধর্মীনির নাম হাসিনা ওয়ার্দা চৌধুরী। অধ্যাপক চৌধুরী দুই মেয়ে এবং এক ছেলের জনক। তার বড় মেয়ে মুনা পেশায় একজন ব্যারিস্টার। ছোট মেয়ে শায়লা চৌধুরী পেশায় চিকিৎসক এবং ঢাকার উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা করেন। একমাত্র ছেলে মাহী বি. চৌধুরী রাজনীতিবিদ।
Related News
পাঁচদিনজুড়ে বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আগামী পাঁচদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া, বজ্রপাতসহ বৃষ্টিরRead More
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ট্রেন ভাড়ায় ২৫% ছাড়ের ঘোষণা
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপরRead More



Comments are Closed