ঐতিহাসিক পলাশী দিবস আজ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ ২৩ জুন, ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের জন্য এক ট্রাজেডির দিন। আজ থেকে ২৬৬ বছর আগে ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীর আম্রকাননে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে যুদ্ধে তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার শেষ সূর্য অস্ত গিয়েছিল। তবে ঐতিহাসিক পলাশীর কথা জাতিগতভাবেই সবার স্মরণে রয়ে গেছে। বেদনাবহ সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে প্রতি বছর এ অঞ্চলের মানুষ দিনটিকে পালন করে আসছে ‘পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস’ হিসেবে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ষোলো শতকের শেষের দিকে প্রাচ্যে ওলন্দাজ, পর্তুগিজ ও ইংরেজদের ব্যাপক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। এক পর্যায়ে ইংরেজরা হয়ে যায় অগ্রগামী। বাংলার সুবেদার-দেওয়ানরাও ইংরেজদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে।
১৭১৯ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খাঁ বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন। তার মৃত্যুর পর সুজাউদ্দিন খাঁ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসন লাভ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আলীবর্দি খাঁয়ের পর ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল সিরাজউদ্দৌলা এই পদে আসীন হন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর।
এ সময় তরুণ নবাবের সঙ্গে ইংরেজদের বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এছাড়া মসনদের জন্য লালায়িত ছিলেন সিরাজের পিতামহ আলীবর্দি খাঁর বিশ্বস্ত অনুচর মীর জাফর ও খালা ঘষেটি বেগম। এরই প্রেক্ষিতে ইংরেজদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে নীলনকশা পাকাপোক্ত করেন তারা।
১৭৫৭ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতা পরিষদ নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করার পক্ষে প্রস্তাব পাস করে। এই প্রস্তাব কার্যকর করতে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড কাইভ রাজ দরবারের অভিজাত সদস্য উমিচাঁদকে ‘এজেন্ট’ নিযুক্ত করে।
ওই বছরের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে সকাল সাড়ে ১০টায় ইংরেজ ও নবাবের বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
মীর মদন ও মোহন লালের বীরত্ব সত্ত্বেও প্রধান সেনাপতি মীর জাফরসহ জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ ও ইয়ার লতিফ প্রমুখ প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীর বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে। সেই সঙ্গে প্রায় পৌনে ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য।
পরাজয়ের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাদায়ক মৃত্যু হয়। উপমহাদেশের মানুষ তাকে আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে। সেদিন নবাবের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। পলাশী বিপর্যয়ের পর শোষিত বঞ্চিত শ্রেণি একদিনের জন্যও স্বাধীনতা সংগ্রাম বন্ধ রাখেনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মলাভ করে। এরপর ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।
Related News
হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে পাশে থাকবে ইরান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাসRead More
একনেকে অনুমোদন পেল নতুন ১১ প্রকল্প
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নতুন ১১ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহীRead More



Comments are Closed