Main Menu

নিজ বাসায় সাংবাদিক সোহানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সোহানা পারভীন তুলি (৩৭) নামে এক নারী সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করে হাজারীবাগ থানার পুলিশ।সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন সোহানা তুলি। দুই বছর আগে সেই চাকরি ছাড়েন তিনি। এর আগে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠ ও আমাদের সময়েও কাজ করেন। ২০২০ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে মনোহরি নামে একটি অনলাইন শপ খুলে সেখানে মসলা জাতীয় পণ্য বিক্রি করতেন।তুলির গ্রামের বাড়ি যশোর সদরে। তার বাবার নাম শাহজাহান। তিনি রায়েরবাজারের শেরেবাংলানগর রোডের বাসায় ২০১৮ সাল থেকে ভাড়ায় থাকতেন।

পরিবারের দাবি, হয়ত কেউ তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখতে পারে। কারণ তুলির মরদেহ হাঁটুগেড়ে ঝুলে ছিল।

তুলির কাছের বন্ধু-বান্ধবী ও বাংলা ট্রিবিউনের সহকর্মীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বুধবার নন্দিতা তাবাসসুম নামে একজন বান্ধবী ঢাকায় শেরে বাংলা রোডে (রায়ের বাজার হাইস্কুলের পাশে) তুলির ভাড়া বাসায় যান। তুলি এখানে একাই থাকতেন। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দারোয়ানের সহযোগিতায় দরজা খোলা হয়। এরপর তুলিকে তার বেডরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে হাঁটুগাড়া অবস্থায় খাটের ওপর পাওয়া যায়।

বিকেলে প্রথমে পুলিশ ও পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট এসে ঘটনা খতিয়ে দেখে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পরে সন্ধ্যে পৌনে ৭টার দিকে ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা বের হয়ে যায়। এরপর সোয়া ৭টার দিকে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

তুলির সাবেক সহকর্মী ও বাংলা ট্রিবিউনের সাবেক ডেপুটি নিউজ এডিটর ফাতেমা আবেদিন নাজলা জানান, তারা কোনো কারণ জানেন না, কেন তুলি এমন পথ বেছে নিল। ব্যক্তিজীবনে তার এমন কোনো ঘটনাও নেই যা থেকে অপমৃত্যুর পথে ঠেলে দিতে পারে। ঘটনাস্থল দেখে প্রাথমিকভাবে তার কাছেও আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে তার মৃত্যুর আসল কারণ।

তার সাবেক সহকর্মী বাংলা ট্রিবিউনের জয়েন্ট নিউজ এডিটর আনোয়ার পারভেজ জানান, তুলি ব্যক্তিজীবনে হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না।

পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মাসুম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, তারা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসেন। তুলিকে তার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিনকে ডাকা হয়। তারা আলামত সংগ্রহ করে। ময়নাতদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পুলিশের ধারণা ২৪ ঘণ্টা আগে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

হাজারীবাগ থানার ওসি মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, রায়েরবাজারের শেরেবাংলা রোডের ২৯৯/৫ নম্বর ভবনের দোতলায় থাকতেন সোহানা পারভীন। অদূরে এক মেসে থাকেন তার ছোট ভাই মোহাইমিনুল ইসলাম। তিনি মাঝে মধ্যে বোনের সঙ্গে থাকতেন। আজ বোনের কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। তবে পুলিশ পৌঁছার আগেই তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তখন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সোহানার ঝুলন্ত নিথর দেহ পাওয়া যায়।

ওসি বলেন, সোহানা পারভীন আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হলেও এখনও এর কারণ জানা যায়নি।

Share





Related News

Comments are Closed