দুর্গাপুরে বালু মহাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতে ১নং ও ২নং বালু মহালের সীমানা নিয়ে দুই ইজারাদারের লোকজনের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) ১নং বালু মহালের সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুর্গাপুর উপজেলা সদরের সোমেশ্বরী নদীতে পাঁচটি বালু মহাল রয়েছে। এর মধ্যে ১নং বালু মহাল ও ২নং বালু মহালের সীমানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।স্থানীয় প্রশাসন থেকে দুর্গাপুর উপজেলার তেরী বাজার ঘাট ও শিবগঞ্জ বাজার ঘাট হতে চৈতাটী পর্যন্ত ২৮৭. ৩৬ একর বালু মহাল ইজারা পান ধনেশ পত্রনবীশ।
গত ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মঈনুল ইসলাম ইজারাপ্রাপ্ত বালু মহাল ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেন। অন্যদিকে ১নং বালু মহালের সীমানা বিজয়পুর ও ভবানীপুর হতে দুর্গাপুর তেরী বাজার ঘাট ও শিবগঞ্জ বাজার ঘাট পর্যন্ত বালু মহাল। সম্প্রতি ১নং বালু মহালের ইজারা পান ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকলীগের সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সোহেল। তার দাবি ২নং মহালের মধ্যে তার কিছু অংশ রয়েছে। অন্যদিকে ২নং বালু মহালের ইজারাদার ও তার লোকজনের দাবি সরকারিভাবে তাদেরকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তারা সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
বুধবার ১নং ঘাটের সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ইজারাদারকে। এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন দুর্গাপুর উপজেলা সদরে লোকজন জরো করতে থাকে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ২নং বালু মহালের ইজারাদার ও তার লোকজনকে বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বুঝিয়ে দেওয়া এলাকা থেকে তারা বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। একদিন সময় দিতেও রাজি নয় তারা। বিকেল পর্যন্ত তারা মহড়া দেয়। সঘর্ষ এড়াতে উপজেলা সদরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত ১নং মহালের লোকজনকে দুর্গাপুরের বালু মহালে দেখা যায়নি।
দুর্গাপুর উপজেলার সোমেম্বরী নদীর বালু মহাল ও উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ২নং বালু মহালের শ্রমিকসহ ইজারাদারের পক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার লোক বালু মহাল ও উপজেলা সদরে জড়ে হয়। তারা হলুদ কাপড় মাথায় বেধে বিভিন্ন সড়কে ও বালু মহালে অবস্থান নেয়।
সোমেশ্বরী নদীর ২নং বালু মহালের ইজারাদার ধনেশ পত্রনবীশ বলেন, আমাকে উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনের সীমানা বুঝিয়ে দিয়েছে। বুঝিয়ে দেওয়া জায়গা থেকে আমি লোকজন দিয়ে বালু উঠাচ্ছি। আমার সীমানায় শ্রমিকরা কাজ করছে। মূখের কথায় আমি জায়গা ছাড়ব কেন। ১নং মহালেরর ইজারাদার মাজহারুল ইসলাম সোহেলের সাথে একাধিকবার তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ্ নূর- এ আলম বলেন, বালু মহাল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, তফসিল গত কারনে ১নং মহাল বুঝিয়ে দিতে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে। এ ছাড়া ১নং মহালের ইজারাদার সম্পূর্ন টাকা এখনও বুঝিয়ে দেয়নি।
Related News
নেত্রকোনায় মিশ্র মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনায় মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গুলশা, পাবদা, টেংরা মাছের সঙ্গেRead More
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যাRead More



Comments are Closed