ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৪ লেন, ১৭৮ কোটি ডলার দেবে এডিবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য করিডরের গতিশীলতাসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের জন্য ১৭৮ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
গত শুক্রবার (২৭ আগস্ট) এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মাল্টিট্রাঞ্চ ফাইন্যান্সিং সুবিধার (এমএফএফ) আওতায় এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসারের লক্ষ্যে ঢাকা-সিলেট করিডোরে এ বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে এডিবি।
এতে বলা হয়েছে, মহাসড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ হলে তা ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি নতুন রুটে পরিণত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আখাউড়া, শেওলা ও তামাবিল স্থলবন্দর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গেও বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচন করবে এ করিডোর। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সরকার যে অর্থনৈতিক করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
এডিবির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিষ্ট সাতোমি সাকাগুচিকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রপ্তানি খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটি শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে ও সামনে রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। দেশের অর্থনীতির এ প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখতে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
সাতোমি সাকাগুচি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি সাউথ এশিয়া সাব রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) প্রোগ্রামের অংশ। করিডোরটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে পরিবহন ব্যয় কমবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদিত হয়। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কে আটটি ফ্লাইওভার, ১৩টি ওভারপাস, পাঁচটি রেল ওভারপাস, ৬৯টি ব্রিজ, ১০টি আন্ডারপাস, তিনটি ইন্টারচেঞ্জ, দুটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে। সঙ্গে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুটপাতও থাকবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। দুই পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেনসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজটি ছয়টি প্যাকেজে ভাগ করেছে সওজ অধিদপ্তর। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা (কাঁচপুর)-নরসিংদী অংশটিকে রাখা হয়েছে প্যাকেজ-১-এ। একইভাবে প্যাকেজ-২-এ নরসিংদী-ভৈরবের ৩৩ কিলোমিটার, প্যাকেজ-৩-এ সরাইল-বুধন্তীপুরের ৩৫ কিলোমিটার, প্যাকেজ-৪-এ বুধন্তীপুর-বাহুবলের ২৮ কিলোমিটার, প্যাকেজ-৫-এ বাহুবল-শেরপুর সেতুর ৩৫ কিলোমিটার ও প্যাকেজ-৬-এ রাখা হয়েছে শেরপুর থেকে পীর হাবিবুর রহমান চত্বরের ৩৬ কিলোমিটার অংশ।
এর মধ্যে গত ২৯ এপ্রিল প্রথম প্যাকেজে থাকা ঢাকা-নরসিংদী অংশের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে সওজ অধিদপ্তর। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের পাশাপাশি ২৭টি কালভার্ট, পাঁচটি সেতু, একটি ফ্লাইওভার ও দুটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে এ প্যাকেজের মাধ্যমে। ‘এক ধাপ দুই খাম’ পদ্ধতিতে দরপ্রস্তাব জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ১৪ জুন। প্যাকেজ-১-এর কাজটিকে আবার দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম লটে কাঁচপুর থেকে সোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণসহ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্বিতীয় লটে সোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে নরসিংদী বিসিক পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো লট দুটির যেকোনো একটি কিংবা দুটিতেই দরপত্র দাখিল করতে পারবেন।
আনুষঙ্গিক অবকাঠামোসহ মহাসড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার সময় পাবেন চার বছর। নির্মাণকাজ শেষ করার পরের এক বছর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড। এ সময়ের মধ্যে সড়কে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারকে নিজ খরচে তা ঠিক করে দিতে হবে। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু হবে ছয় বছরের পারফরম্যান্স বেজড মেইনটেন্যান্স কাজ। মহাসড়কটি নির্মাণের পর সব মিলিয়ে সাত বছর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে ঠিকাদারকেই। মহাসড়কটির প্রত্যেকটি প্যাকেজের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম অনুসরণের কথা জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে আগামী বছরের প্রথম দিকেই মহাসড়কটির নির্মাণকাজ আমরা শুরুর প্রত্যাশার কথা বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ কে মোহাম্মদ ফজলুল করিম।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ঢাকার কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রাথমিকভাবে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে প্রথমে নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে প্রাক্কলন করা হয় ১০ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এ প্রাক্কলন অনুযায়ী মহাসড়কটির কাজ বাস্তবায়নের জন্য সে সময় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর করে সরকার। এরই মধ্যে চায়না হারবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে মোটা অংক ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চীনা অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। চীনের অর্থায়ন থেকে সরে এসে পরবর্তী সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা, যা বেশিদূর এগোয়নি। এখন এডিবির অর্থায়নে প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।
Related News
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিলেন সৌদি রাষ্ট্রদূত
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার ঘোষণাRead More
দেশের ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ রাতের মধ্যে দেশের ১৪টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণRead More



Comments are Closed