Main Menu

পর্যটন কেন্দ্র খোলার দাবি

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পর্যটনকর্মী এবং শিল্পকে রক্ষায় পর্যটন কেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশন। সংগঠনটি বলছে, এই শিল্পে নিয়োজিত ৪০ লাখ শ্রমিক এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লাখ লাখ দক্ষ পর্যটনকর্মী পেশা পরিবর্তন করছেন। এই দুঃসময়ে পর্যটন কর্মীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র বা বিনিয়োগকারীরা কোনো ভূমিকা রাখেনি।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাতে ফেডারেশনটি আয়োজিত ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রেক্ষিত করোনায় বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্প’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

Manual3 Ad Code

সভায় বক্তারা বলেন, সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যটন শিল্পের সর্বোচ্চ বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুরো দেশকে ৮টি পর্যটন জোনে ভাগ করে কয়েকটি স্তরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কক্সবাজারে প্রত্যক্ষভাবে ৩৭ হাজার কোটি এবং পরোক্ষভাবে ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণে ২৫টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। রামুর ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ সংস্কার এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে ৩৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পি.পি.পির মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ, মংলায় থ্রি স্টার হোটেল নির্মাণ, সিলেটে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণ, টাঙ্গুয়ার হাওর দর্শনের পর্যটকদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, খুলনায় আন্তর্জাতিক মানের হোটেল কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, কক্সবাজারে এন্টারটেইনমেন্ট ভিলেজ এবং পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স তৈরি ছাড়াও টেকনাফের সাবরাং সমুদ্রতীরে ২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’ এবং নাফ নদীর তীরে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় ‘নাফ ট্যুরিজম পার্ক’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটনের এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের সেবা দিতে যারা দেশের অ্যাম্বাসিডর হিসেবে ভূমিকা পালন করেন সেই দক্ষ পর্যটনকর্মী তৈরি এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া পর্যটন শিল্পের বিকাশে গৃহীত মহাপরিকল্পনা কার্যত সফল হবে না।

বক্তারা আরও বলেন, করোনাকালের দুঃসময়ে পর্যটন কর্মীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র বা বিনিয়োগকারীরা কোনো ভূমিকা রাখেনি। পর্যটন মাহপরিকল্পনায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও পর্যটনকর্মীদের সুরক্ষায় বিদ্যমান শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথা বলা হয়নি। ২০০৯ সালে গৃহীত পর্যটন নীতিমালা অনুযায়ী পর্যটন নীতিমালা বাস্তবায়নে ২৯ সদস্যের কমিটি রয়েছে। সেই কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সাথে এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কিংবা বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদস্য হিসেবে থাকলেও পর্যটন আবাসন, পর্যটন পরিবহন, পর্যটনকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যার ফলে করোনার এই দুঃসময়ে পর্যটন শিল্পকে রক্ষায় রাষ্ট্র সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন আচরণ করেছে।

Manual7 Ad Code

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যটন কর্মীদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা, কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা, একটি মান সম্পন্ন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ কবতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং অবিলম্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনার অনুমতি প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।

Manual8 Ad Code

সভায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহ্বায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ, সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, বিশিষ্ট পর্যটন ব্যক্তিত্ব-গবেষক-লেখক জামিউল আহমেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট খবির উদ্দিন আহমেদ, ট্যুরিজম ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ হাবিব আলী, বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রেজাউল একরাম, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক আসাফ উদ্ দৌলা (আশেক) প্রমুখ।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code