লাফার্জের ক্রাশিং চুনাপাথর বিক্রি, ছাতকে তদন্ত টিম
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ছাতকস্থ লাফার্জ হোলসিম কর্তৃক অবৈধভাবে খোলাবাজারে ক্রাশিং চুনাপাথর বিক্রির অভিযোগ তদন্তে এসেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত টিম। ছাতক ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দেয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে নেমেছে মন্ত্রণালয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিসিআইসির পরিচালক ও যুগ্ম সচিব বেগম জেসমিন নাহার ও ছাতক সিমেন্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব এএফএম আব্দুল বারিও টিমে রয়েছেন।
রোববার (৮ আগস্ট) সকালে ছাতক সিমেন্ট কারখানা গেস্ট হাউজে এ সংক্রান্ত শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে লাফার্জ হোলসিমের পক্ষে প্ল্যান্ট ম্যানেজার হারপাল সিং, ফাইন্যান্স ম্যানেজার খায়রুল আমিন ও হেড অব অপারেশন অরুণ কুমার সাহা অংশগ্রহণ করেন।
শুনানীতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে লাফার্জ হোসিমের সিএফও ইকবাল চৌধুরী, লিগ্যাল ডাইরেক্টর মিজানুর রহমান, চীফ কর্পোরেটঅ্যাফেয়ার্স অফিসার আসিফ ভূইয়া উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা অনুপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষে শুনানীতে অংশ গ্রহণ করেন পরিষদের আহবায়ক, ছাতক লাইমস্টোন ইম্পোর্টার্স এন্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী, ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব হাজী আবুল হাসান, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলু মিয়া চৌধুরী, ছাতক লাইষ্টোন ইম্পোর্টার্স এন্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপের সেক্রেটারী অরুণ দাস ও লেবার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ওয়ারিছ আলী।
লাফার্জ হোলসিম কর্তৃক অবৈধভাবে খোলাবাজারে ক্রাসিং চুনাপাথর বিক্রিতে ছাতকের ঐতিহ্যবাহী চুনাপাথর ও পাথর ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করেন ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কাজী আনোয়ার মিয়া আনু, পৌর কাউন্সিলর ইরাজ মিয়া ও হাজী নাজিমুল হক।
এ সময় ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজিম উদ্দিন, ছাতক শুল্ক ষ্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, ছাতক ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সমছু মিয়া, চুনাপাথর ব্যবসায়ী হাজী নূরু মিয়া তালুকদার, হাজী আলী আজগর সোহাগসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী বলেন, লাফার্জ অবৈধভাবে ক্রাশিং চুনাপাথর বিক্রি করে এখানের আড়াইশ’ বছরের পুরাতন চুনাপাথ ব্যবসাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে লাফার্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হলে এর বিপরীতে সংশ্লিষ্টরা ক্রাশিং চুনা পাথর বিক্রির কোন বৈধ কাগজ-পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যবসার স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীও জানান তিনি।
তদন্ত শেষে এ সংক্রান্ত বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তদন্ত টিমে থাকা কর্মকর্তাগণ। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার পরামর্শও দেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
Related News
ছাতকে সালিশ ব্যক্তিত্ব সামছুল ইসলাম আর নেই
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের ভূইগাঁও গ্রামের বিশিষ্টRead More
সুনামগঞ্জে ২টি বালুমহাল থেকে সব ধরনের বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে সব ধরনের বালুRead More



Comments are Closed