৩০০ ফ্লাটের আনুষ্টানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকার সুবিধা দিয়ে বস্তিবাসীর জন্য রাজধানীর মীরপুরে তৈরি আধুনিক ৩০০টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নির্বাচিত ৩ জন উপকারভোগী বস্তিবাসীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দপত্র তুলে দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষও আমাদের প্রয়োজন। প্রতিদিন কাজের জন্য তাদের আমাদের দরকার। বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজের জন্য এ ধরনের মানুষ প্রয়োজন রয়েছে। বস্তিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এতো মানবেতর জীবনযাপন করে…। আমাদের দেশে হরিজন, দলিত শ্রেণি ছিল। তাদের জন্য আমরা ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দিয়েছিলাম; ৯৬ সালে সেটা শুরু করেছিলাম। মাঝে বিএনপি এসে সেগুলো লুটপাট করে খায় এবং নষ্ট করে দেয়। সেই বিল্ডিংগুলো ভেঙে এখন নতুন করে দিচ্ছি। ইতোমধ্যে কয়েকটা করা হয়েছে। আরও কয়েকটা করব। আজকে ৩০০টা ফ্ল্যাট ৩০০ পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। পর্যায়ক্রমে আমরা এ ব্যবস্থা নেব; তবে তাদের ভাড়া দিয়ে থাকতে হবে।
একই অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঢাকায় নির্মিত আরো ২৪৭৪টি ফ্ল্যাট সংবলিত ৫টি আবাসন প্রকল্প এবং মাদারীপুরে নির্মিত সমন্বিত অফিস ভবন উদ্বোধন করেন।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় ছয় বিঘা জমির ওপর ১৪তলার পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনে রয়েছে কমিউনিটি হল, দুটি লিফট ও প্রশস্ত সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৪০ কেভিএ জেনারেটর ও ২৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিক সুবিধা। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে এ প্রকল্পে।
৬২০ থেকে ৭১৯ বর্গফুট আয়তনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি করে বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি ড্রয়িং রুম, বেসিন, রান্নাঘর ও দুটি বাথরুম। ফ্ল্যাটের দুই পাশে ফাঁকা জায়গা। ফ্ল্যাটগুলো টাইলস করা। তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্ল্যাটে বসবাস করতে পারবেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীর জন্য সর্বমোট দশ হাজার ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে। আজ ৩০০ পরিবারের হাতে বরাদ্দপত্র দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে দেওয়া হবে আরও এক হাজার একটি পরিবারকে। ওই বস্তিতে থাকা দশ হাজার পরিবার নতুন ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটে রয়েছে কমিউনিটি হল, দুটি লিফট ও প্রশস্ত সিঁড়ি। এ ছাড়াও রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৪০ কেভিএ জেনারেটর ও ২৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন সুবিধা।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজধানীর মতিঝিল, আজিমপুর, মিরপুর, মালিবাগ ও তেজগাঁও এলাকায় পাঁচটি আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। আজিমপুর সরকারি কলোনিতে রয়েছে ১৭টি ২০তলা ভবনে ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট, মালিবাগে চারটি ২০ তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট এবং মতিঝিলে পাঁচটি ২০ তলা ভবনে ৩৮০টি ফ্ল্যাট। এছাড়াও রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আটতলার দুটি আবাসিক ভবন। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফ্ল্যাট বরাদ্দ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসনের সুবিধা বেড়েছে। ৩০০ বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট বিশাল একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দরিদ্রদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে গভীর ভালোবাসা, তা প্রকাশ পেয়েছে।
Related News
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিলেন সৌদি রাষ্ট্রদূত
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার ঘোষণাRead More
দেশের ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ রাতের মধ্যে দেশের ১৪টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণRead More



Comments are Closed