করোনা ভ্যাকসিন নিতে নিবন্ধন যেভাবে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : সরকারের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা বাংলাদেশে চলে আসবে। প্রস্তুতি পর্বের সবগুলো ধাপ শেষে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে ‘ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ভ্যাকসিনেশন প্ল্যান ফর কোভিড ভ্যাকসিন ইন বাংলাদেশ’ ডকুমেন্টের বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি ভ্যাকসিনের নিবন্ধ প্রক্রিয়া বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় বলা হয়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন নিবন্ধন, ভ্যাকসিন কার্ড, সম্মতিপত্র, ভ্যাকসিন সনদ প্রদানে আইসিটি বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘সুরক্ষা ওয়েবসাইট’ তৈরি করা হয়েছে। ভ্যাকসিন নিতে হলে নাগরিকদের অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর যথাযথ নিয়ম মেনে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যাবে। একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যে ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া
প্রথমে আগ্রহী ব্যক্তিকে স্মার্ট মোবাইল ফোনে করোনা ভ্যাকসিনের অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর নাম, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পেশাসহ বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যাপে ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ডিজিটাল কার্ড পাওয়া যাবে।
করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণকারীকে এই কার্ডটি নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে ভ্যাকসিনকেন্দ্রে আসতে হবে। নিবন্ধন করতে একজন ব্যক্তির ৫ থেকে ৬ মিনিট সময় লাগবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন যাতে সুন্দরভাবে দেয়া যায় সেজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এটি তৈরি করছে আইসিটি মন্ত্রণালয়। আমরা সেজন্য সহযোগিতা করছি। সে অ্যাপের মাধ্যমে যিনি ভ্যাকসিন নিতে পারবেন, তিনি নিবন্ধন করবেন এবং সেখানে কিছু তথ্য দেয়ার বিষয় আছে, তিনি তথ্য দিলে নিবন্ধন হয়ে যাবে। পরে তাকে একটি সময় ও জায়গা বলে দেয়া হবে। সেখানে সময়মতো উপস্থিত হলে ভ্যাকসিন নিতে পারবেন।
টিকা বিতরণ কমিটির সদস্য ডা. শামসুল হক বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে গ্রহীতাকে একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। কারণ, যাকে আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, তার একটা অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। আমরা এজন্য একটি সম্মতিপত্র তৈরি করেছি। সেখানে নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, তারিখ ও পরিচয়পত্র থাকবে। এই সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের পর সেটি আমাদের কাছে সংরক্ষিত থাকবে।’
শামসুল হক বলেন, ‘সম্মতিপত্রে লেখা থাকবে– করোনার টিকা সম্পর্কে আমাকে অনলাইনে এবং সামনাসামনি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই টিকা গ্রহণের সময়, অথবা পরে যেকোনো অসুস্থতা, আঘাত বা ক্ষতি হলে, তার দায়ভার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বা সরকারের নয়।’
তিনি বলেন, ‘সম্মতিপত্রে আরো লেখা থাকবে– আমি সম্মতি দিচ্ছি যে, টিকা গ্রহণ ও এর প্রভাব সম্পর্কিত তথ্যের প্রয়োজন হলে আমি তা প্রদান করবো। জানা মতে, আমার ওষুধজনিত কোনো অ্যালার্জি নেই।’
এছাড়া টিকাদান পরবর্তী প্রতিবেদন, অথবা গবেষণাপত্র তৈরির বিষয়ে অনুমতি দিলাম। আমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এই টিকার উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হয়ে টিকা গ্রহণে সম্মত আছি– বলেও উল্লেখ করা থাকবে সম্মতিপত্রে।
এই সম্মতিপত্রে উল্লেখ থাকা বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে শামসুল হক বলেন, ‘যদি কারও কোনো সমস্যা থাকে এবং এটি যদি কোনো গ্রহীতা না জানিয়ে থাকেন তবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলেও তা আমরা বুঝতে পারবো না।’
শামসুল হক বলেন, ‘কেন্দ্র ও ভ্যাকসিন গ্রহণের তারিখ এসএমএস বা খুদে বার্তার মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে। তালিকাভুক্তদের দুই মাসের ব্যবধানে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার সময়ে গ্রহীতাকে একটি কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডটি ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে এই নিয়ে আসতে হবে গ্রহীতাকে। ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হলেও কার্ডটি সংরক্ষিত করতে হবে। এছাড়া যদি কার্ডটি হারিয়ে যায় তবে সেটি www.surakkha.com.bd ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এই ওয়েবসাইট থেকেই ভ্যাকসিন গ্রহীতা সনদ সংগ্রহ করে নিতে পারবে।’ সূত্র: কালের কন্ঠ
Related News
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা, জামায়াত আমিরের তীব্র নিন্দা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর হামলার চেষ্টারRead More
পবিত্র মক্কা নগরীতে ড্রোন হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পবিত্র নগরী মক্কা আল-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবরের ঘটনায় তীব্র নিন্দাRead More



Comments are Closed