৬০০ পরিবারকে ফ্ল্যাট দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রায় তিন দশক আগে ১৯৯১ সালে কক্সবাজারে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বাস্তুহারা কয়েক হাজার পরিবারের মধ্যে ৬০০ পরিবারকে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ফ্ল্যাট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথম ধাপে ৬০০ পরিবারকে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন।
প্রতিটি পরিবারকে মাত্র ১ হাজার ১ টাকার নামমাত্র মূল্যে এসব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়।
প্রথম ধাপে ৬০০ পরিবারকে এই ফ্ল্যাট দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে আরও সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকেও পুনর্বাসন করা হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়কেন্দ্র শেখ হাসিনা আশ্রয়ন প্রকল্পে।
কক্সবাজারের খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত হয়েছে ৫ তলার ১৯টি ভবন। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আশ্রয়নকেন্দ্রে মোট ১৩৯টি ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট। প্রতিটি ফ্ল্যাটে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডার সুবিধাসহ থাকবে সৌর বিদ্যুতের প্যানেলও।
১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট এলাকার কুতুবদিয়া পাড়ায় জলবায়ু উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছিলেন তারা। পাতলা পলিথিন, শন, নারিবেল পাতা মুড়িয়ে তৈরি করা খুপড়িতে থাকতেন পরিবার নিয়ে। প্রায় ৩০ বছর পর স্থায়ী আবাসন পেয়ে সবাই খুশি। পুরো পাড়ায় সব বয়সী মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। –
১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছাসে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মহেশখালী কুতুবদিয়াসহ উপকূলের বিশাল এলাকা সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। এতে গৃহহারা হয় হাজার হাজার মানুষ।
এসব মানুষ জীবনের তাগিদে আশ্রয় নেয় কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দরের পশ্চিমে বালিয়াড়ী ও ঝাউবাগান এলাকায়, যা পরবর্তীতে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়। যেখানে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। জলবায়ু উদ্বাস্তু এসব মানুষ ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে আসছিল। বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প বিকাশ ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরাটেক এবং সমিতি পাড়া এলাকার বিপুল পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণ করে সরকার। অধিগ্রহণের আওতায় পড়া জমিতে ৪ হাজার ৪০৯টি পরিবার বাস করতো। ২০১১ সালের ৩রা এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে এক জনসভায় এসব জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারের জন্য পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেন। তারই প্রেক্ষিতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গ্রহণ করা হয় খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্প’। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রথমে ৫ তলাবিশিষ্ট ১৯টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
Related News
৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরRead More
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, ভোট হবে ৭ ধাপে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছেRead More



Comments are Closed