করোনাক্রান্ত বাবার সংস্পর্শে এসে ২ সন্তান সংক্রমিত
বৈমাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বিগত কয়েকদিনে এ জেলার পুলিশসহ তাদের পরিবারের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বেশি। বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জে নতুন করে আরও ১৮ করোনা রোগী শনাক্ত হলে তার মধ্যে থেকে দুইজন শিশুর নমুনার রিপোর্টেও এসেছে করোনা। আক্রান্ত দুই শিশুর বয়স ৩ ও ৫ বছর ও তারা সম্পর্কে ভাই এবং তাদের বাবা একজন পুলিশের এএসআই, যিনি কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বাবা নিজের অজান্তে সন্তানদের আদর করার সময় এ ভাইরাসটি সংক্রামিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জে এখন পর্যন্ত ১৭জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন এবং বাহিরে দায়িত্ব পালন করেছেন। আক্রান্ত সবাইকে পুলিশ লাইন হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে আক্রান্ত পুলিশের ওই এএসআই ছিলেন পুলিশ লাইন মেসের ম্যানেজার ও দায়িত্ব পালন করেছেন বাহিরে মানুষকে ঘরমুখী করতে। বর্তমানে পুলিশ লাইনের ম্যানেজার ও খাবারের আনা নেওয়ার দায়িত্বে থাকার গাড়ির চালক দুজনই করোনায় আক্রান্ত।
যখন সুনামগঞ্জে প্রথম করোনা আক্রান্ত পুলিশের তথ্য পাওয়া যায় তখন পুলিশ লাইনের সকলের করোনার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলে সেখানে ওই পুলিশের এএসআইয়েরও নমুনা নেওয়া হয় এবং তার করোনা পজিটিভ আসে।
সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে তিনি প্রথমেই করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজের অজান্তে বাসায় গিয়েছেন এবং পরবর্তীতে রিপোর্টে শনাক্ত হওয়ার পর আইসোলেশনে গিয়েছেন। করোনা রিপোর্টের ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত তিনি তার পরিবারের সাথে বাসায় থেকেছেন এবং বাসা থেকে গিয়ে পুলিশ লাইনে হাজিরা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাসায় থাকার কারণে তার ছোট দুই সন্তান যাদের বয়স ৩ ও ৫ বছর তারা পুলিশ বাবার সংস্পর্শে গিয়েছে এবং বাবাও অজান্তে তাদের আদর করায় বা তাদের সাথে খেলা করায় তার সন্তানের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের পুলিশ লাইনে আক্রান্ত হওয়া ১৭জন পুলিশ সদস্য বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া আক্রান্তরা ডাক্তারের পরমার্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে করোনায় আক্রান্ত হওয়া পুলিশের এএসআই বলেন, আমার কোন উপসর্গ ছিলনা। আমি সতর্কতা অবলম্বন করেই দিনাতিপাত করছিলাম। সতর্কতা হিসেবে আমি ঈদের জামাতেও অংশ নেইনি। কিন্তু করোনা ভাইরাসে আমি আক্রান্ত হয়েছি। গত ২৪ মে নমুনা দেয়ার পরে ২৫ তারিখের রিপোর্টে আমার করোনা পজিটিভ আসে।
তিনি আরও বলেন, আমার কোন ধরণের শারীরিক সমস্যা নেই। পুলিশ লাইন হাসপাতালের আইসোলেশনে আছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। কিন্তু গতকালের রিপোর্টে আমার দুই ছেলেরও করোনা শনাক্ত হয়েছে। আমি নিজের থেকে বেশি তাদের নিয়ে এখন চিন্তিত রয়েছি। আমার অবুঝ দুই বাচ্চা তাদের বাবার কাছে এসেই আক্রান্ত হয়েছে। আমি নুমনার ফলাফল আসার পর আলাদা হয়ে যাই কিন্তু তার আগে আমি বাসায় গিয়েছি বাচ্চারা আমার কাছে এসেছে আমি আদর করেছি। আমি চাইনা আমার মতো কারও সন্তান করোনায় আক্রান্ত হোক। আমার ছেলেদের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারো কাছ থেকে সংক্রামিত হয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি কয়েকদিনে বুঝা যায় না তাই যেই পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছে তিনিও না জেনেই অন্যদের সাথে গল্প করেছে তাই আমাদের আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের এএসআইয়ের যে দুই শিশু আক্রান্ত হয়েছে তাদের চিকিৎসাও পুলিশ লাইন হাসপাতালে হবে। পুলিশ তাদের পরিবারের পাশে সবসময় রয়েছে। এছাড়া তারা যদি চায় অন্য কোথাও আইসোলেশনে রাখতে আমরা সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবো।
Related News
সুনামগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি বসতবাড়িRead More
ছাতকে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ‘মুল্লা’ ছালেক কারাগারে
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছালেক আহমদ (৪৮)Read More



Comments are Closed