ডাক্তার মঈনের পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ বীমার ভাতা খুব দ্রুত তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে তিনি এ তথ্য জানান।
বুলেটিনের শুরুতেই আবুল কালাম আজাদ ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তিনি কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন। শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।’
তিনি জানান, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তারা ওই চিকিৎসকের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হাসপাতালে ছুটে যাই এবং নিহত চিকিৎসকের সহধর্মিণীর সঙ্গে কথা বলি।
তিনি বলেন, ‘মরহুমের স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। ডা. চৌধুরী রিফাত জামান একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ফিজিওলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।’ মহাপরিচালক জানান, করোনায় মারা যাওয়া চিকিৎসকের দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ১২ ও ৭ বছর।
এই চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন মরহুমের পরিবারের সকল দায়-দায়িত্ব সরকার নেবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের জন্য যে বীমা ঘোষণা করা হয়েছে, মরহুমের পরিবার সেটা যেন দ্রুত পান প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন।’ একই সঙ্গে করোনারোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে আছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
এ সময় যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের মৃত্যুতে মনে হচ্ছে আমরা আমাদের ভাইকে হারালাম। সহযোদ্ধাকে হারালাম।
ডা. মঈন উদ্দিন ছিলেন সিলেটের প্রথম করোনা রোগী। গত ৫ এপ্রিল তার শরীরে করোনা রোগ ধরা পড়ে। রোগ ধরা পড়ার পর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের চিকিৎকদের পরামর্শমতে তিনি বাসায় কোয়ারেন্টিন অবস্থায় চিকিৎসা নিতে থাকেন। কোয়ারেন্টিনের আওতায় নিয়ে আসা হয় তার পরিবারের বাকি সদস্যদের এবং পুরো হাউজিং এস্টেট এলাকা লকডাউন করা হয়।
এদিকে, তার শরীরের অবস্থা খারাপের দিকে গেলে ৭ এপ্রিল তিনি নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থা উন্নতি না হলে ৮ এপ্রিল সেখান থেকে পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই ৭দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বুধবার সকাল পৌনে ৭টায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ডাঃ মঈন উদ্দিন সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলায়।
Related News
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, ভোট হবে ৭ ধাপে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছেRead More
গ্যাস-বিদ্যুৎ কাল রাত থেকে স্বাভাবিক হবে: আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আগের মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেকRead More



Comments are Closed