Main Menu
শিরোনাম
বিয়ানীবাজারে ২৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১         সিলেটে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ৮২৯৭, মৃত্যু ১৫১         সিলেটে দুই ল্যাবে আরো ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত         সুনামগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ব্যবসায়ীর মৃত্যু         শাবির ল্যাবে আরও ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত         নবীগঞ্জে দুলাভাই-শ্যালিকার পরকীয়ার বলী হলেন মা         শায়েস্তাগঞ্জে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত ১         জাফলংয়ে আসা পর্যটকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন         বিশ্বনাথে দুই ছেলের হামলায় পিতা আহত         ধর্মপাশায় নৌকা ডুবে মা-ছেলেসহ ৩জনের মৃত্যু         ছাতকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         দলই চা বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন        

পূবালী ব্যাংকের এটিএম থেকে ৯ লাখ টাকা লুট

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে এটিএম জালিয়াত চক্র। গত শনি ও রোববার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে পূবালী ব্যাংকের তিনটি এটিএম বুথ থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানিয়েছে।

পূবালী ব্যাংকের হ্যাক হওয়া তিনটি এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে কুমিল্লা শহরে পূবালী ব্যাংকের একটি বুথে প্রবেশ করেন এক যুবক। গোলাপি রঙের চেক ফুল শার্ট পরা ওই যুবকের চোখে ছিল কালো ফ্রেমের চশমা, মুখে চাপ দাড়ি। বুথে প্রবেশ করেই তিনি প্রথমে বুথের ডিসপ্লে চেম্বারটি খুলে ভেতরে কোনো একটা ডিভাইস বসান। এরপর পকেট থেকে বেশ কয়েকটি কার্ড বের করে তা বুথে প্রবেশ করিয়ে ওই বুথ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে নেন তিনি।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে পূবালী ব্যাংকের চট্টগ্রামের একটি বুথে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে ওই বুথে প্রবেশ করেন একই যুবক। কুমিল্লার বুথের মতোই এ বুথেও কিছু একটা স্থাপন করে বেশ কয়েকটি কার্ডের মাধ্যমে অর্থ তুলে নেন। এরপর ৮টা ৪৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে চট্টগ্রামে পূবালী ব্যাংকের আরেকটি বুথে প্রবেশ করে একই প্রক্রিয়ায় টাকা তুলে বের হয়ে যান তিনি। এরপর ৮টা ৪৯ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে আরেক যুবক ওই একই বুথে প্রবেশ করেন। শ্যামলা বর্ণের মধ্যবয়সী এ ব্যক্তি বাংলাদেশী বলে শনাক্ত করেছেন গোয়েন্দারা।

বুথ থেকে জালিয়াত চক্রের টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাটি ঘটার পরপরই তিনটি বুথের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের সিস্টেম সুরক্ষিত রয়েছে। গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

পূবালী ব্যাংকের এ তিনটি বুথ থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোডের পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, কলেজ রোডের বুথ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ও কুমিল্লা শহরের বুথ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার তথ্য এসেছে সংস্থাটির কাছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান রিপন এ প্রসঙ্গে বলেন, পূবালী ব্যাংকের তিনটি এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়ার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দুজনের ছবি পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ দুজনকে কেউ চিনে থাকলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

এ নিয়ে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ হ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ১ মে ডাচ্-বাংলার নয়টি বুথ থেকে ১৬ লাখ টাকা তুলে নিয়েছিল হ্যাকাররা। ওই সময় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মূল সার্ভারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ইনজেক্ট করে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গ্রুপ হিডেন কোবরা। এর ফলে এটিএম বুথের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে। বুথের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর চারটি ভার্জিন কার্ড ব্যবহার করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নয়টি বুথ থেকে ১৬ লাখ টাকা তুলে নেয় প্রতারক চক্র।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ২০১৭ সালে এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনটি চক্রের মোট ১৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ১২ জন। এছাড়া ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ছয়জন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গত এক বছরে গ্রেফতার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে দুজন বিদেশী নাগরিকও রয়েছেন। বাকি ১৬ জনের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা এবং সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার এক কর্মকর্তাও রয়েছেন। ওই চক্রের দলনেতা শাহ আজিজ সোহেল দুবাই থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এটিএম কার্ড জালিয়াতি শুরু করেন। তার প্রশিক্ষক ছিলেন মার্কিন নাগরিক এরিক লিমো। এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে বাকি দুই বছর দুবাইতেই এটিএম কার্ড জালিয়াতি করেন শাহ আজিজ সোহেল। পরে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরে এখানে একটি এটিএম কার্ড জালিয়াতি চক্র গড়ে তোলেন তিনি। তবে সেক্ষেত্রে তাদের সার্বিক নির্দেশনা দিতেন মার্কিন নাগরিক এরিক লিমো। এছাড়া এ চক্রে ছিলেন উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার এক কর্মকর্তাও।

0Shares





Comments are Closed