অমরী পালের থেমে যাওয়া জীবন কাহিনী
আব্দুল বাছিত বাচ্চু: জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। নিজের পায়ে দাড়াতে কতই না চেষ্টা। শিখেছিলেন পোশাক সেলাইর কাজ। তিলে তিলে গড়ে তুলেন নিজের একমাত্র প্রতিষ্ঠান “আঁচল টেইলারিং শপ”। এগিয়েছিলেনও অনেক দূর। ভিটের জমি ক্রয়। জীর্ণ কুঠির বানিয়ে নিজের ঘরে বসবাস। বাচ্চাদের ভালো স্কুলে পড়ানো সবকিছু ভালোই চলছিলো।
কিন্ত একটি দুর্ঘটনা পাল্টে দিয়েছে সকল সুন্দর স্বপ্ন । নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য শ্রেষ্ঠত্বের সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া (২০১৫) অমরী পাল এখন দাড়াতেই পারেন না। সোজাসুজি শুয়ে থাকতে হয় সারাক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে। কাউকে পেলে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। হয়তবা ভাবেন মানুষের জীবনে কেনো এমন হয়। পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সবকিছু উলট পালট হয়ে যায়। “একটি দূর্ঘটনা, সারাজীবনের কান্না” নিটল টাটা’র বিজ্ঞাপনে বলা এই কথাগুলো যে কতটুকু বাস্তব সত্য শ্রীমঙ্গলের দুই সন্তানের জননী অমরী পাল (৩৯) এর জীবন কাহিনী শুনলেই বুঝা যায়।
সম্প্রতি মৌলভীবাজার শহরে একটি ফিজিও থেরাপি সেন্টারে রোগী দেখতে গেলে পরিচয়। স্বামী সুনীল পাল আমাকে পূর্ব থেকেই সম্ভবত চিনতেন। নিয়ে গেলেন নিজেদের কেবিনে। দেখালেন বেডে শুয়ে থাকা স্ত্রী অমরী পালকে। কিছু সময় বসে শুনেছি তাদের দূঃখকথা।
অমরীর জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার এক অজোপাড়া গায়ে। মায়ের গর্ভে রেখেই মারা যান বাবা। ভূমিষ্ট হওয়ার বছর সাতেক পর অমরীকে নিয়ে মা চলে আসেন শ্রীমঙ্গলে। কলেজ রোডের এক কমিশনারের বাসায় পাকসীর কাজ নেন। সেখানে থেকেই অমরী কিছু পড়াশোনা আর সেলাইর কাজ শিখেছেন। বিয়ের পর স্বামী সুলীল পাল (৪৫) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ৩০০ টাকার ভাড়া বাসায় থেকে অমরী সেলাইর কাজ শুরু করেন। তখন তার বানানো জামা কাপড় ব্লাউজ নিয়ে মা বাসায় বাসায় বিক্রি করতেন। এভাবে দিনের পর দিন চাহিদা বেড়ে গেলে কলেজ রোডে গড়ে তুলেন নিজের প্রতিষ্ঠান “আঁচল টেইলারিং শপ”। ভালোই চলছিলো। ৫/৬ টি মেয়ে সেখানে কাজ করতো। যেমন সেলাইর কাজ রাখতেন ঠিক তেমনি সেলাই শিখানো ছিলো নৈমিত্তিক কাজ।
এমনি এক সময়ে ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরার পথে টমটম উলটে আমরীর উপর আঁচড়ে পড়ে। ভেঙে যায় দুটি স্পাইনাল কড । এই দুই বছরে মানুষের সাহায্য নিয়ে দেশে বিদেশে অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন স্বামী সুলীল পাল। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। স্পাইনাল কডের অপারেশন ভারতবর্ষে নেই।এখন থেরাপিই একমাত্র ভরসা। তাই ভিক্টোরিয়া স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ুয়া ছেলে পঞ্চম পাল আর উদয়ন স্কুলে পঞ্চম শ্রনীতে পড়ুয়া মেয়ে আঁচল পালের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদবিগ্ন অমরী। জানতে চাইলেন অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সরকার তো আমাকে সম্মাননা দিলো। এই দুঃসময় কি তাদের নজর কাড়ে না।
Related News
বড়লেখায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ ‘জিন্নী হুজুর’ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকেRead More
মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত, আটক ১
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (২৯)Read More




Comments are Closed