Main Menu

মেয়র আরিফুল হকের শুভেচ্ছাবিলাস!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঈদ এলে জনপ্রতিনিধিরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সেটি স্বাভাবিক। কেউ ব্যানার-ফেস্টুনে, কেউ সংবাদপত্রে, কেউ ক্যাবল টিভিতে কেউবা তোরণ-বিলবোর্ডে। তবে এবার সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। যেদিকে দু চোখ যায় কেবলই মেয়রের হাসিমাখা মুখ। আরিফের শুভেচ্ছার দাপটে অন্যরা যেনো কোনঠাসা। নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যানারে তোরণে আরিফেরই ‘জয় জয়কার’। আগের মেয়াদে মেয়র থাকাকালে প্রায় অর্ধেক মেয়াদই কারাগারে বন্দি ছিলেন আরিফ। এবার যেনো সে ‘ক্ষতি’টাই তিনি পুষিয়ে নিতে চাইছেন।

শাহী ঈদগাহের চারদিকে কোথাও চোখে পড়েনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিংবা সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের কোনো তোরণ। শুধুমাত্র পূর্ব শাহীঈদগাহে শাহমীর গাজী (র.) মাজারের সম্মুখের রাস্তায় ড. মোমেনের একটি তোরণ চোখে পড়েছে। অার চৌহাট্টায় অারেকটি বিলবোর্ডে একসাথেই দেখা গেছে মোমেন মুহিত দু’জনকে। চৌহাট্টা পয়েন্টে অারিফের নামে রয়েছে একটি বিলবোর্ড ও একটি তোরণ।

যেখানে একটি তোরণ বা বিলবোর্ড লাগালেই হতো সেখানে সিটি মেয়র অারিফুল হক চৌধুরীর নামে নগরভবনের অর্থব্যয়ে লাগানো হয়েছে তিনটি। মঙ্গলবার রাতে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে বিমানবন্দর অভিমুখে মসজিদের প্রধান গেটের পাশে মেয়র আরিফের নামে বিশাল তোরণ। মসজিদের দক্ষিণদিকের গেটের সাথেই মূল রাস্তার উপরে বিশাল আরেকটি বিলবোর্ড। সেটিও অারিফের। এখানেই থেমে যায়নি নগরভবন। মসজিদের দক্ষিণ দিকে আম্বরখানা পয়েন্টে চৌহাট্টা অভিমুখী রাস্তায় অারেকটি বিশাল বিলবোর্ড রয়েছে মেয়র অারিফের শুভেচ্ছা সম্বলিত। একই পয়েন্টে মাত্র কয়েকগজ দূরত্বে স্থাপন করা হয়েছে দু’টি বিলবোর্ড ও একটি তোরণ। অথচ ঈদকে সামনে রেখে এসব বিলবোর্ড নগরীর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনেই ভাড়া নিতে চেয়েছিল। সেটি না দিয়ে এখানে নগরভবন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই নিজেদের প্রচার করছে। এর মাধ্যমে নগরভবনের অর্থ আয়ের চাইতে লোকসানই হচ্ছে।

নগরভবনের টাকা দিয়ে নিজের প্রচারে ব্যস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, এটাকে অপচয় হিসেবেই দেখছেন পথচারি ও সচেতন নগরবাসী। আম্বরখানা থেকে কোর্টপয়েন্টের দিকে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী সুহেল আহমদ আক্ষেপের সুরে বললেন, এ অপচয়ের কোনো মানে নেই। যেখানে একটি বিলবোর্ড বা তোরণ হলেই চলতো সেখানে আরিফুল হক চৌধুরী টানিয়েছেন তিনটি। তাও ওগুলো জনগণের টাকায়। নগরভবনের টাকায়। নিজ দলের কোনো নেতাকর্মী কিংবা নিজের ব্যক্তিগত অর্থে হলে আপত্তি ছিল না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নগরভবনের অর্থ সাশ্রয় করা প্রয়োজন।

আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে কোর্টপয়েন্টের দিকে এগুলে দরগাহগেটে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সামনে পড়ে আরো একটি তোরণ। এরপর এপথ ধরে আরো একটু এগুলো চৌহাট্টা পয়েন্ট সেখানে এসে চৌহাট্টা পাবলিক টয়লেট থেকে কিছু অদূরে আরেকটি তোরণ। পয়েন্টের জিন্দাবাজার সড়কে ট্রাফিক পয়েন্টে আরেকটি বিশাল বিলবোর্ড; সেটিতেও আরিফুল হক চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা।

চৌহাট্টা পেরিয়ে আসা যাক কোর্টপয়েন্টে। ওভারব্রিজের পুরোটাই সিটি মেয়রের দখলে। রাস্তা থেকে ওভারব্রিজের যতোটা চোখে পড়ে; সেখানে শুধু আরিফকেই দেখা যায়। অনেকেই তোরণ-বিলবোর্ডে সুযোগ না পেয়ে আশা করেছিলেন ওভারব্রিজে ফেস্টুন দিয়ে হলেও নগরবাসীকে ঈদশুভেচ্ছা জ্ঞাপন করবেন। নগরভবন কর্তৃপক্ষ সেটিরও সুযোগ দেয়নি। উল্টো নগরীর বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটি ও স্থাপনাতে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন খুলে নিয়েছে তারা। কোর্টপয়েন্ট থেকে বন্দরবাজার-ধোপাদিঘীরপার রাস্তার দিকে এগুলো চোখে পড়বে মেয়র আরিফের আরো তোরণ-বিলবোর্ড।

এবার আসা যাক শাহী ঈদগাহ এলাকাতে। এখানে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহের চারপাশ জুড়ে আরিফের আরোও চারটি তোরণ। আল্লাহুপয়েন্টে একটি। এর কিছু দূরে নিচে ঈদগাহের দক্ষিণ ফটকে কুমারপাড়া সড়কে আরেকটি। পূর্বদিকের রাস্তায় অারেকটি তোরণ। এর পায়ে হাটা দূরত্বে মিনার কমপ্লেক্সের সামনে উত্তর কাজীটুলা ইলেকট্রিক সাপ্লাইরোডে শোভা পাচ্ছে মেয়রের তোরণ। এগুলো ছাড়াও নগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শোভা পাচ্ছে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আরোও বেশ কয়েকটি তোরণ-বিলবোর্ড।

নগরীর চৌহাট্টা এলাকার মুহিবুর রহমান বলেন, মেয়র জনগণের টাকা অপচয় করছেন। নগরবাসীর উচিত এর প্রতিবাদ জানানো। একেকটি তোরণে নিচে হলেও ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর বিলবোর্ড যেগুলো দেখলাম ওগুলোতে বড় সাইজের। ওগুলোতে প্রিন্ট করতেই ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন হিসেব করে দেখেন শুভেচ্ছা জানাতে কতো গেলো নগরভবনের! আর মেয়র বিলবোর্ডের জন্য কোনো ভাড়া দিবেন বলেও মনে হয় না!

সৌজন্যে শ্যামল সিলেট

Share





Related News

Comments are Closed