Main Menu

বিশ্বনাথে ১৭জনের বিরুদ্ধে ‘মানবপাচারের‌’ মামলা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় ১৭জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিহত বিশ্বনাথের কলেজ ছাত্র রেদওয়ানুল ইসলাম খোকনের (২৪) বড় ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে বিশ্বনাথ থানায় এ মামলাটি (নং ০৮ (০৫)২০১৯) দায়ের করেন।

মামলায় উপজেলার কাঠলীপাড়া গ্রামের চমক আলীর ছেলে আদম ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক (৫০), তার ছেলে লিবিয়ায় অবস্থানরত পারভেজ আহমদ (২৮), মেয়ে অনন্যা প্রিয়া পিংকি (৩০), গোলাপগঞ্জের পোনাইরচর গ্রামের আবদুল খলিলের ছেলে এনামুল হক তালুকদার (৪৫) ও ব্রাম্মণবাড়িয়ার সরাইলের ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল জব্বার ভুইয়ার ছেলে আবদুর রাজ্জাক ভূইয়ার (৩৪) নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২জনকে আসামি করা হয়।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মানবপাচার এবং আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে এনামুল হক তালুকদার ও আবদুর রাজ্জাক ভূইয়াকে বৃহন্পতিবার রাজধানী ঢাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সদস্যরা আটক করেছে বলেও জানান ওসি।

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন বিশ্বনাথের কলেজ ছাত্র রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন (২৪)। তিনি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের নওধার মাঝপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী ও জোছনা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে।

গত ৯ মে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবির পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তার খোঁজখবর না পাওয়ায় মা-বাবাসহ পরিবারের লোকজন পাগল হয়ে পড়েছেন। মা-বাবা দু’জনেই বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন, আর জ্ঞান ফিরলে খোকনের জন্যে কান্নাকাটি করছেন। তাদের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কান্না ছাড়া যেন কোন কাজই নেই। বাড়িতে যেন চলছে শোকের মাতম।

খোকনের মা বাবার সাথে কথা বলে জানা গেছে, খোকন সিলেট সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। গ্রামের পার্শ্ববর্তি বৈরাগী বাজারস্থ খোকনের বড়ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু’র ‘ফিজা এন্ড কোম্পানী’ নামে একটি ফাস্ট ফুডের ব্যবসা রয়েছে। যেখানে খোকন ও তার বাবা বেশিরভাগ সময়ই বসতেন। প্রায় ৭ মাস আগে বাজারের পার্শ্ববর্তি কাঠলীপাড়া গ্রামের চমক আলীর ছেলে আদম ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইতালি পাঠানোর সুবর্ণ সুযোগের কথা বলেন। আর এতে খোকন রাজি হয়ে পড়লে পরিবারের সকলেই টাকার জন্য হিমশিম খান।

একপর্যায়ে তাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সাড়ে ৮ লাখ টাকায় জাহাজে করে এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠাবে বলে চুক্তি করে। পরবর্তিতে ব্রাক ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখা থেকে ‘ফিজা এন্ড কোম্পানী’র নামে ৮ লাখ টাকা লোন তুলে দালাল রফিককে দেন তারা। পরে নভেম্বর মাসের শেষের দিকে খোকনকে লিবিয়া পাঠায় দালাল রফিক। সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবির পর থেকে নিখোঁজ হন খোকন।

ইলিয়াস আলী, জোছনা বেগম বলেন, ‘দালাল রফিকুল ইসলাম চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের ছেলেকে সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করিয়েছে। সে জন্য দালাল রফিকের ফাঁসি চান তারা। আর তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকাও তাদেরকে জিম্মি করে নিয়েছে রফিক।’

খোকনের বড় ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু বলেন, ‘সাগরে নৌকা ডুবির পর দালাল রফিক, তার মেয়ে পিংকি আক্তার, ছেলে পারভেজ এবং আব্দুর রহমান একাধিকবার মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে খোঁকনকে ইতালী পৌঁছানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে তাকে। পরে কাঠলীপাড়ার বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান দালাল রফিক স্বপরিবারে পালিয়েছে।’

Share





Related News

Comments are Closed