Main Menu

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ডায়েরি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ণ চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার হুমকির ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার দু’দিন পর শনিবার দুপুরে কোতোয়ালী মডেল থানায় এ ডায়েরি করেন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রার ইশফাক জামান। তদন্তের পর ঘটনার সতত্য পেলে এ ডায়েরিটি মামলা হিসেবে গৃহিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে কর্মবিরতী পালন করেছেন ইন্টার্ণ চিকিৎসরা। এসময় তারা ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ারের শাস্তি দাবির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে অকথ্য ভাষায় গালমন্দের পাশাপাশি অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যা এবং ধর্ষণের হুমকি দেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন।

চিকিৎসকদের দাবি, চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য হত্যার হুমকির কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করায় তিনি রেগে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ওই ঘটনার ভুক্তভোগী হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. নাজিফা আনজুম নিশাত তার ফেসবুকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউরোলজির এক রোগী হাসপাতালে আসলে ডিউটি চিকিৎসকের অনুরোধে আমি তাকে রিসিভ করি। কারণ আমার অ্যাডমিশন ছিল। তখন তার সাথে আরও ১৫-১৬ জন ছেলেও হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। পেশেন্টের (রোগীর) হিস্ট্রি নিতে খুব বিনয়ের সাথে তাদের একজনকে সেখানে থেকে বাকিদের নিয়ে বাইরে যেতে বললে তারা উত্তেজিত হয়ে যায়।’

“এ সময় তারা বলেন, ‘তোমার এমডিকে আমি কানধরে এনে দাঁড় করাবো। কর ট্রিটমেন্ট।’ আমি তখন বললাম, কি বললেন আপনি? সে বললো (আঙুল উঁচিয়ে), ‘কিছু বলি নাই। পেশেন্ট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। ট্রিটমেন্ট দাও।’”

নিশাত আরও বলেন, “এর মধ্যে আমি পেশেন্টের বিপি মাপা শুরু করে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে তুই-তোকারি শুরু করলেন। আমি আর সহ্য করতে না পেরে কান্না করতে করতে সিএ, আইএমও রুমে গিয়ে ভাইয়া-আপুদের ঘটনা জানাই। তারপর সেই ছেলে আমার পেছন পেছন এসে কোমর থেকে ছুরি দেখিয়ে বললো, ‘তোর সাহস কত। লাশ ফেলে দিবো।…বাইরে বের হ একবার। রেইপ করে ফেলবো। আমার পা ধরে তোকে মাফ চাওয়া লাগবো…।’ এছাড়া অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করতে থাকে সে।”

Share





Related News

Comments are Closed