শুক্রবার থেকে শুরু বিশ্ব ইজতেমা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আগামীকাল শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হতে যাচ্ছে হজের পর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে এবার ৫৪তম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখন চলছে ইজতেমা মাঠের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজ। ইতোপূর্বে ইজতেমা তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলেও এবার মুসল্লিদের মতভেদের কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় তা চার দিন নির্ধারণ করেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মাধ্যমে প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা যোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। আখেরি মোনাজাত শেষে যোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা শনিবার রাতের মধ্যেই ইজতেমা মাঠ ছেড়ে যাবেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন মাওলানা সা’দ আহমাদ (ওয়াসিফুল ইসলামের) অনুসারীরা। এ পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবারের মধ্যে ইজতেমা মাঠের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। এখন চলছে ১০ শুরা সদস্যের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন জামাতে বিভক্ত হয়ে মাঠ প্রস্তুতির কাজ। ২০ থেকে ২৫ হাজার তাবলিগ জামাতের সাথী স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠ প্রস্তুতের কাজ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইজতেমা ময়দানে বিশাল এলাকা জুড়ে প্যান্ডেল, খুঁটি ও মাঠের ভিতরে রাস্তা মেরামত কাজ চলছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মুসল্লিরা দলবেঁধে ময়দান পরিষ্কার করছেন। কেউ কেউ চট দিয়ে বিশাল সামিয়ানা, খুঁটি ও বিদ্যুতের তার টানাচ্ছেন। ঠেলাগাড়িতে বাঁশ নিয়ে আসছেন, মাইক লাগাচ্ছেন। বিদেশি মেহমানদের জন্য আলাদা মঞ্চসহ বয়ানমঞ্চ প্রস্তুত করছেন। মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের ছাত্র ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ইজতেমা মাঠে আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজ করছেন। প্রতিদিন গাজীপুর ও ঢাকার আশপাশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলবেঁধে ইজতেমা মাঠে কাজ করে সময় ব্যয় করছেন। আগত মুসল্লিরা ইজতেমা সফল করার লক্ষ্যে পুরোদমে প্রস্তুতিমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করতে দেখা গেছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ইজতেমা মাঠের উঁচু-নিচু জায়গা ও রাস্তা-ঘাট সমান করছে। ইতোমধ্যেই ইজতেমা ময়দানের সামিয়ানার কাজ প্রায় শেষের পথে। জেলাভিত্তিক বিভিন্ন খিত্তায় মুসল্লিরা অবস্থান করবেন। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুসল্লিদের যাতায়াতসহ ময়দানে সুযোগ-সুবিধার লক্ষ্যে তুরাগ নদীতে সেনাবাহিনী ভাসমান সেতুর কাজ করছে। এখানে সবকিছুই হয়ে থাকে বিশ্ব তবলীগ জামায়াতের সর্বোচ্চ মজলিশে শুরার নির্দেশনা অনুযায়ী। একই সঙ্গে ইজতেমার মাঠজুড়ে গ্যাসের লাইন, বিদ্যুতের তার ও পানির পাইপ টানার কাজও চলছে। অজু-গোসলের স্থান ও টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে গাজীপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও সিটি কর্পোরেশন। এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আয়োজক কর্তৃপক্ষ। তবে মাঠ প্রস্তুত কাজে শুধু মাওলানা যোবায়েরের অনুসারীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
Related News
দুরুদ শরীফ: অন্তরের প্রশান্তির সুখ
আতিকুর রহমান নগরী: মানুষের জীবনে আত্মিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকেRead More
ইসলামে সদকা বা দান-সদকার ফজিলত অপরিসীম
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, ইসলামে সদকা বাRead More



Comments are Closed