Main Menu

জগন্নাথপুরে হামলা ও সংঘর্ষে আহত ১৭

জগন্নাথপুর সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামে দু’দফা সন্ত্রাসী হামলা ও সংঘর্ষে ব্যবসায়ীসহ কমপক্ষে ১৭ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩ নভেম্বর) শ্রীধরপাশা গ্রামে পূর্ব বিরোধে জেরধরে রাজু মিয়ার বাড়িতে ও গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীধরপাশা দারুল উলুম মাদরাসার সামনে এ পৃথক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে শ্রীধরপাশা গ্রামের কোরেশী গোষ্ঠীর সোহাগ মিয়া, জিলু মিয়া, রাজু মিয়া ও রাশাদ মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে সোহাগ মিয়া সজ্ঞাহীন অবস্থায় রয়েছেন।

জানা গেছে, জগন্নাথপুরে উপজেলার শ্রীধরপাশা গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ আলম কোরেশী ও একই গ্রামের আব্দুল মালিক পক্ষের লোকজনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রীধরপাশা দারুল উলুম মাদ্রাসার জমি নিলামকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ আলম কোরেশীর গ্রুপের সাথে আব্দুল মালিক গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হন এবং নুর আলী নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় শ্রীধরপাশা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে দারুল উলুম মাদরাসার সামনে পৌছামাত্র আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আব্দুল মালিক গ্রুপের ১৫ থেকে ২০ জন হামলা চালায়। হামলায় সোহাগ ও জিলু মিয়া গুরুতর আহত হন।

সন্ত্রাসীরা সোহাগ ও জিলুর উপর দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অর্তকিত হামলা চালায়। এতে সোহাগ মিয়ার পেটে, পিঠে ও হাতে রক্তাক্ত জখম হয়। তার পেট দিয়ে বুড়ি বের হয়ে গেছে বলে ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সোহাগের শরীরে প্রায় চার ঘন্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হয়। এছাড়া জিলু মিয়ার হাত ভেঙে গেছে।

এদিকে, শনিবার সকাল ৭টায় কোরেশী গোষ্ঠীর রাজু মিয়ার বাড়িতে আব্দুল মালিক গ্রুপের ১০-১৫ জন হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কোরেশী গোষ্ঠির ১০জনসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন।

কোরেশী গোষ্ঠী পক্ষের আহতরা হলেন, রাজু মিয়া, রশাদ মিয়া, জয়নুল হক, ময়নুল আলম, জাকার, শামিম, ফরহাদ, সুজেব মিয়া, আরিক মিয়া, মাজহারুল। এরমধ্যে রাজু মিয়া ও রশাদ মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা জগ্ননাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আব্দুল মলিক গ্রুপের আহতরা হলেন আজমল খা, ছব্বির, আখতার, সাজু, সোয়াজ, ফারহান। এঁরা সবাই জগ্ননাথপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন উর রশিদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

Share





Related News

Comments are Closed