দুই জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এসব ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ী ও একজন চরমপন্থি নেতা।
ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের শহরতলী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পায়েল (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সে নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ ১১ টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তিনি পুলিশের কাছ থেকে পলাতক এবং ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি ছিলেন। নিহত যুবক নগরীর পুরোহিতপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।
এঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৪ অক্টোবর ) মধ্যরাত পৌনে ২ টার দিকে শহরতলীর আকুয়া দরগাপাড়া এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রোববার মধ্যরাতে ডিবি ওসি এবং ওসি তদন্তের নেতৃত্বে ডিবির দুইটি চৌকশ টিম শহরতলীর আকুয়া দরগাপাড়া এলাকায় বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে আব্দুল মান্নান সাহেবের ইট ভাটার সামনে পাকা রাস্তার পাশে পৌঁছলে অজ্ঞাত ৫/৬ জন মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে।
তিনি জানান, গোলাগুলির একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী পায়েলকে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ গ্রাম হিরুইন ও ৯ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি (লাল পতাকা) শরিফ ওরফে ফরহাদ (৩৩) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় র্যাবের ২ সদস্য আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৪ অক্টোবর) গভীর রাতে সদর উপজেলার দাইন্যা চৌধুরী মধ্য পাড়া এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। শরিফ সদর উপজেলার গালা গ্রামের মৃত চান মিয়া ওরফে নয়ন গাজীর ছেলে।
র্যাব-১২ সিপিসি ৩ এর কোম্পানি কমান্ডার রবিউল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে দাইন্যা চৌধুরী মধ্য পাড়া এলাকায় র্যাব অভিযান চালায়। চরমপন্থির দলের সদস্যরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে র্যাবের সার্জেন্ট শহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমান আহত হন।
আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুসময় গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে চরমপন্থির দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সভাপতি ফরহাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শরিফের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল থানায় হত্যা, ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
Related News
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পদদলিত হয়ে শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।Read More
স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সাত মাসেরRead More



Comments are Closed