৬ দিন ধরে নিখোঁজ বিসিকের মহাব্যবস্থাপক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) মহাব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম (৫৮) গত ১১ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় তার পরিবার পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
নিখোঁজ শরিফুল ইসলামের স্ত্রীর বড় বোন মাহমুদা বেগম মঙ্গলবার এই তথ্য জানান।
শরিফুল ইসলামের স্ত্রী লায়লা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি বিসিকের ডেপুটি ম্যানেজার। ১১ জুলাই সকালে তার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল ১১টার দিকেও তিনি আমাকে ফোন না দেওয়ায় আমি নিজেই ফোন দেই। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরপর আমি ওই ডাক্তারের সহকারীকে ফোন দেই। তিনিও জানান, আমার স্বামী হাসপাতালে যায়নি। এরপর আমি অফিসে তার সেকশনে যাই, সেখানেও তাকে না দেখে আমি সোজা আমাদের শান্তি নগরের বাসায় চলে আসি। বাসায় এসে দেখি দরজা লক করা। তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পাই লাইট ফ্যান জ্বলছে। তার মোবাইল, ঘড়ি, চাবি সব আছে। তখন আমি বিষয়টি সবাইকে জানাই।’
এ বিষয়ে মাহমুদা বেগম বলেন, ‘গত রমজানেও তিনি এরকম একবার চলে গিয়েছিলেন। তাদের একমাত্র মেয়ের গত জানুয়ারিতে বিয়ে হয়েছে। এরপর সে স্কলারশিপ পেয়ে আমেরিকাতে চলে যায়। তখন শরিফুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। মেয়েকে নিয়ে তিনি চিন্তা করতেন খুব বেশি।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিনগরের বাসায় তারা স্বামী স্ত্রী থাকতেন। ঘটনার দিন সকালে শরিফুল আমার বোনকে জানায়, তার শরীর খারাপ, অফিসে যাবেন না। তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বাসায় থেকে যান। ১১ জুলাই সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি তার শান্তিনগরের বাসা থেকে বের হয়ে যান। নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, এসময় তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও হাফহাতার শার্ট। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছি কিন্তু তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শরিফুল ইসলাম একটু বিষাদগ্রস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসা চলছিল। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কাউন্সিলিং নিতেন। ১১ জুলাই তার সেখানে কাউন্সিলিংয়ের জন্য যাওয়ার কথা ছিল। এছাড়াও তার ডায়েবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা ছিল।’
এই ঘটনায় পল্টন থানায় জিডি করা হয়েছে। তবে পুলিশও কোন কিছু জানাতে পারেনি বলেও জানান মাহমুদা বেগম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরিফুল ইসলামের এক আত্মীয় বলেন, ‘তিনি মানসিকভাবে একটু অস্থির ছিলেন। আমরা ধারণা করছি, অস্থিরতার কারণে হয়তো বাসা থেকে না বলে চলে গেছেন। এই অসুস্থতা তার আগে থেকেই ছিল।’
এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘তিনি ডিপ্রেসনে ভুগছিলেন। তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আমেরিকাতে চলে যায়। এরপর থেকে সে একটু ডিপ্রেসড। গত রমজানেও তিনি বাসায় কিছু না বলে এভাবে চলে গিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তাকে বরিশালের কীর্তনখোলা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে তার মোবাইলও নেই। তারপরও আমরা বিভিন্ন থানা এলাকায় তার ছবি দিয়েছি, তথ্য দিয়েছি। সবরকমের চেষ্টা চলছে।’
Related News
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। মঙ্গলবারRead More
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নিজেদের মেয়র প্রার্থীRead More



Comments are Closed