কারাফটক থেকেই ফিরে গেলেন বিএনপির নেতারা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা না করেই ফিরে গেলেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দুপুর ১২টার দিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুকসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে আসেন।
এ সময় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের কারাফটকের দিকে যেতে বাধা দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় অনুমতি না থাকায় তারা খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে পারবেন না।
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আজকে ঈদের দিন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে পরিবারের সদস্য, দলের নেতাকর্মীদের দেখা করার সুযোগ দেয়ার কথা। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ বলছে তারা আমাদের যেতে দেবেন না। আমরা তিন দিন আগেই একটি আবেদন করেছিলাম কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর। কিন্তু এখন পুলিশ বলছে আমাদের দেখা করতে দেবে না, আবেদনের কপিটিও তারা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবেন না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
মির্জা আব্বাস বলেন, ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়সহ বিভিন্ন সময় আমরা জেল খেটেছি। ঈদ ও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে আমরা বিনা অনুমতিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, আজকে ঈদের দিনে আমাদের নেত্রীর সাথে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা চেয়েছিলাম জেলগেটে যাবো। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা বলবো যে আমাদের আগেই অনুমতি চেয়ে আবেদন করা ছিল। কিন্তু পুলিশ আমাদের জেলগেট পর্যন্ত যেতে দিল না। কারা কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের অনুমতি না দিত, আমরা ফিরে আসতাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের আগেই ফিরিয়ে দিচ্ছে। জেল কোড অনুযায়ী ঈদের দিন পরিবারের সদস্যসহ সবাই দেখা করতে পারে, দেখা করা না গেলেও তাদের দেয়া খাবার ভেতরে পৌঁছে দেয়া হয়। কিন্তু তা না করে আমাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাই এবার পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে চার দেয়ালের ভেতরেই ঈদ করতে হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। যদিও এই অভিজ্ঞতা তার জন্য নতুন নয়। এক দশক আগে এক-এগারোর সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গ্রেফতার হয়ে সংসদ ভবন এলাকার সাব জেলে রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদ কাটিয়েছিলেন বিএনপি প্রধান।
প্রতি বছরই ঈদুল ফিতরে বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সর্বসাধারণের সঙ্গে ঈদের কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। কারান্তরীণ থাকায় এবার একাকিত্ব নিয়েই থাকতে হবে শারীরিকভাবে অসুস্থ এই শীর্ষ রাজনীতিককে।
Related News
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। মঙ্গলবারRead More
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নিজেদের মেয়র প্রার্থীRead More



Comments are Closed