রাজধানীসহ ছয় জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বৈশাখি নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। বেশ কয়েকদিন ধরে চলা এই অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার (২৭ মে) মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের ৬ জেলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন।
এদের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে ১ জন, পিরোজপুর ও কুমিল্লায় দুইজন করে নিহত হয়েছেন। এছাড়া চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, নাটোর ও ঝিনাইদহে নিহত হয়েছেন একজন করে।
নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কুমিল্লা: কুমিল্লায় মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
রবিবার মধ্যরাতে জেলার দেবিদ্বার উপজেলা সদরের অদূরে পশ্চিম ভিংলাবাড়ি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা এলাকায় এ দুটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- এনামুল হক ভূইয়া ওরফে দোলন (৩৫) এবং নুরু (৫৫)। এর মধ্যে দোলন পুলিশের ও নুরু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেবিদ্বারে নিহত দোলন উপজেলার ভিংলাবাড়ি (মির্জানগর) গ্রামের মৃত আবদুল্লা ভূইয়ার ছেলে এবং সদর দক্ষিণে নিহত নুরু উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে বলে জানা গেছে।
ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে মাদক বিক্রির সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত পরিচয় (আনুমানিক বয়স ৪০ বছর) এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
রবিবার রাত ৩টার দিকে মিরপুরের রূপনগর ‘ট’ ব্লকে সরকারি কর্মচারীদের নির্মাণাধীন ভবনেরর পাশে এ ঘটনা ঘটে।
রূপনগর থানার এসআই মিজানুর জানান, রূপনগর ট-ব্লক এলাকায় সরকারী কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে-এমন খবর পেয়ে ডিবি (পশ্চিম) বিভাগের একটি দল ভোররাত ৩টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়।
টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ডিবিও পাল্টা গুলি চালালে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা ও ১টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভায় দুই মাদকব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সুমন বিশ্বাস ওরফে কানা সুমন (৩২) নামে এক মাদকব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
রবিবার রাত ১টার দিকে পৌর এলাকার কাছলা ব্রিজ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সুমন নৈদিঘীর পাথর গ্রামের বাবুল বিশ্বাসের ছেলে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন জানান, রাতে দুই মাদক গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সুমন মারা যান। স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দুইটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, সুমনের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় ২৫টি মাদক মামলা রয়েছে। যে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
চাঁদপুর: জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবু সাঈদ বাদশা ওরফে লাল বাদশা (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
রবিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বৈচাতলী এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। বাদশা একই উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় ১০টি মাদক মামলা রয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি শাহ্ আলম বলেন, পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়ে উপজেলার গুপ্টি ব্রিজ এলাকায় গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি চালায়। এসময় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে আবু সাঈদ বাদশাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১টি বন্দুক, ৩টি ককটেল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১১১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর গোলাগুলিতে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার রাত ২টার দিকে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে জাড়গ্রাম নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ নিহতের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, রাত ২টার দিকে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে জাড়গ্রাম এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখান থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২০ বোতল ফেন্সিডিল ও ১টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলেও জানায় তিনি।
পিরোজপুর: পিরোজপুরে পৃথক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ওহিদুজ্জামান (৩৫) ও মিজানুর রহমান (৩৪) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় ডিবি ও থানা পুলিশের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন।
রবিবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার কৈবর্তখালী গ্রামে ও মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।
পিরোজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, রবিবার দুপুরে পিরোজপুর পৌরসভার উত্তর কৃষ্ণ নগর এলাকা থেকে ওহিদুজ্জামানকে পিরোজপুর ডিবি পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী রাত পৌনে ১টার দিকে সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের টোনা ব্রিজ সংলগ্ন কৈবর্তখালী গ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে সেখানে গেলে ওহিদুজ্জামানের সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় তারা ডিবি পুলিশের কাছ থেকে ওহিদুজ্জামানকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
গুলিতে ডিবি পুলিশের এএসআই আল-আমিন ও ডিবি পুলিশ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান আহত হন। আত্মরক্ষার্থে ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে ওহিদুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় ওহিদুজ্জামানের সঙ্গীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত অহিদুজ্জামান ও আহত ২ ডিবি পুলিশ সদস্যকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ১টি পাইপ গান, ৫ রাউন্ড গুলি, ২টি বগি দা, ১৭৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০ গ্রাম গাঁজা, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাদক ব্যবসায়ী ওহিদুজ্জামান নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ কৌরিখাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ।
পিরোজপুর ডিবির পরিদর্শক মিজানুল হক জানান, ওহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদক, সন্ত্রাসী, অস্ত্র মামলাসহ ৮ টি মামলা রয়েছে। তিনি একটি মাদক মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
অন্যদিকে, রবিবার রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মছুয়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। টের পেয়ে মিজানুর রহমান ও তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে পুলিশের ৬ সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সবাই পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই মিজানুর রহমানের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে হতাহতদের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার বলেন, মিজানুরের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ ৬টি মামলা রয়েছে।
নাটোর: নাটোরের সিংড়া উপজেলার ভাগনগরকান্দি এলাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।
রবিবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় র্যাবের ২ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার ও বেশ কিছু ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
নাটোর র্যাব-৫ সিটিফি-২ কোম্পানি কমান্ডার মেজর শিবলি মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি নিহত ব্যক্তির নাম জানাতে পারেননি।
Related News
গাজীপুরে নদীতে গোসলে নেমে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই মাদ্রাসাRead More
হবিগঞ্জে চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলায়Read More



Comments are Closed