মোস্তফার শখের খামারে ১০৫ প্রজাতির কবুতর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খাবারের থালা হাতে ‘আয় আয়’ ডাকতেই রঙ-বেরঙের কবুতরগুলো তাদের
আবাস ছেড়ে পত পত উড়ে এসে গোলাম মোস্তফার পায়ের কাছে জড়ো হলো।
থালা থেকে মেঝেতে খাবার ছড়িয়ে দিতেই কবুতরের দল ‘বাক বাকুম, বাক বাকুম’ করে খাওয়া শুরু করে দিলো।
এ দৃশ্য কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড় এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার বাড়ির শখের কবতুর খামারের।
গোলাম মোস্তফা নিতান্তই শখের বসে গড়ে তোলেন কবুতরের এই খামার। যাকে এলাকাবাসী ডাকেন কবুতর প্রেমিক বলে।
মোস্তফার খামারে এখন ১০৫ প্রজাতির প্রায় ৭০০ কবুতরের বাস। যার একেক জোড়ার দাম ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা।
মোস্তফা বলেন, তার খামারে বেনারশ, চুইথাল, কাগচি, গলাকষা, সবুজগলা, খাঁকিগলা, খইয়ে, শাহানপুরী, কালদোম, মুসলদোম, সবুজছায়াসহ প্রায় ১০৫ প্রজাতির দুস্প্রাপ্য সব কবুতর রয়েছে। খামারে বর্তমানে কবুতরের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও তিনি ভারত ও পাকিস্তান থেকে এসব কবুতর সংগ্রহ করেছেন। কখনো কখনো তিনি বিনিময় পদ্ধতি অর্থাৎ একজাতের কবুতর দিয়ে অন্য জাত নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে তার সংগ্রহশালা বাড়িয়েছেন।
পেশায় হস্তশিল্প সামগ্রী ব্যবসায়ী মোস্তফার অবসর সময় কাটে কবুতরের সাথে।
গোলাম মোস্তফা ইউএনবিকে জানায়, ছোট বেলা থেকেই তার কবুতর পোষার স্বপ্ন ছিল প্রবল। উড়ন্ত কবুতর দেখতে তার খুব ভালো লাগতো। ১৯৭৬ সালে কুষ্টিয়া শহরের বাস টার্মিনালের কাছে ভাড়া বাসায় তিনি ১২ জোড়া কবুতর এনে সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেন।
তবে ভাড়া বাসায় তেমন জায়গা না থাকায় স্বল্প পরিসরেই চলছিল কবুতর পালন। পরে শহরের কাস্টমস মোড়ে নিজস্ব বাড়ি তৈরীর পর ছাদের ওপর ঢেউটিনের ছাউনি দিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি গড়ে তোলেন কবুতর খামারটি।
সেই খামারে সরু রড দিয়ে তৈরী অসংখ্য খোপে এখন নানা
জাতের নানা বর্ণের শত শত কবুতরের বসবাস। অনেক খোপে সদ্য তোলা বাচ্চা, আবার কোনো কোনো কবুতর ডিমে তা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই খামার কোনো বাণিজ্যিক খামার নয়। এখান থেকে তিনি কোনো রোজগারের আশাও করেন না। এটা নিতান্তই তার শখের খামার।’
তবে তার মতে, কেউ চাইলেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এমন কবুতরের খামার করতে পারেন। এর মাধ্যমে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
মোস্তফা বলেন, তার খামারের একজোড়া সবুজছায়া কবুতরের বর্তমান বাজার মূল্য ২৫ হাজার টাকা। আর একজোড়া খাঁকিগলা কবুতরের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা। তবে কবুতরের ওড়ার ক্ষমতার ওপর এর দাম নির্ধারণ হয় বলে জানান এ খামারি।
এই কবুতরদের খাবারের জন্য গড়ে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। খামারের পাশের ঘরেই থরে থরে সাজানো রয়েছে গম, ভুট্টা, ধান, গম ও ভুট্টার ছাল, সরিষা, ডিমের খোসা, ইটের সুরকি, চুনসহ নানা জাতের খাবার।
এছাড়া কবুতররা সবুজ সাক-সবজি খেতেও ভালবাসে। এ কারণে মোস্তফা খামারের পাশে ছাদে নানা জাতের গাছপালা ও শাক সবজি চাষ করেছেন। কবুতররা ইচ্ছেমত উড়ে এসব গাছের পাতা খায়।
কবুতরের খুব বেশি রোগ বালাই না হলেও শীতকালে কিছু রোগ দেখা দেয়। এ সময় তিনি স্থানীয় প্রাণী সম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো কবুতরদের ক্যালশিয়াম ট্যাবলেট এবং ভিটামিন এ ও ডি জাতীয় ওষুধ পানিতে গুলে খাইয়ে দেন।
প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টায় উঠে মোস্তফা কবুতর পরিচর্যায় হাত দেন, আর একটানা সকাল ৯টা অবদি চলে এ কাজ। এ কাজে স্ত্রী রেহেনা পারভিন পারুল ও নাতনী হুমাইরা ফারজানা ছোঁয়া তাকে নানাভাবে সাহায্য করে।
স্ত্রী রেহেনা পারভিন পারুল জানান, ‘খামারের কবুতরদের মোস্তফা নিজ সন্তানের মতো করে লালন পালন করেন। অনেক খামারি মাংসের জন্য কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করলেও তিনি কোনো দিন এমন কাজ করেননি। এই খামার তার ধ্যান- জ্ঞান, অবসরের পুরোটা সময় তিনি এই খামারের কাজে ব্যয় করেন।’
মোস্তফা জানান, মাঝে মধ্যে তিনি সব কবুতর খোপ থেকে বের করে উড়িয়ে দেন। ৭০০ কবুতর যখন এক সাথে আকাশে উড়ে, কেউ কেউ ডিগবাজি দেয় তখন তিনি কবুতর পোষার স্বার্থকতা খুঁজে পান। দৃষ্টিনন্দন এ দৃশ্য দেখে তার প্রাণ ভরে যায়। -ইউএনবি
Related News
সাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টারRead More
অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা, ঝিনাইদহে গ্রেপ্তার ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঝিনাইদহের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে ইলিশ মাছ, জুতা, বাচ্চাদের খেলনা, ফার্নিচারসহRead More



Comments are Closed