Main Menu

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী, প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি)। এ উপলক্ষে তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই-শাল্লা উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনের প্রথম প্রহরে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, সমাধিস্থলে পুস্পস্তবক অর্পন। সকাল ১১টায় দলীয় কার্যালয় থেকে শোকর‌্যালি বের করা হবে। র‌্যালি শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন উপসানালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদার।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদের উদ্যোকে শ্রদ্ধা ও শোক জানিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারিং করেছে। পরিষদের আহ্বায়ক কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ রায় জানিয়েছেন- সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান, শোকর‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে পরিষদ। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন প্রয়াত এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও শোকর‌্যালি করবে বলে জানা গেছে।
দিরাই প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পুস্পস্তবক অর্পণ ও আলোচান সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন।
উল্লেখ্য গত বছরের ফেব্রুয়ারি ঢাকার ল্যাবএ্যাইড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পরদিন তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই পৌরসদরস্থ বাসভবনের পাশে তাকে দাহ করা হয়। পরে সেখানে সমাধী নির্মাণ করা হয়।
১৯৪৫ সালের ৫ই মে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের আনোয়ারপুর গ্রামে জন্ম সুরঞ্জিতের। তার বাবা চিকিৎসক দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ও মা সুমতি বালা সেনগুপ্ত। তিনি দিরাই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি ও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট এম সি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সন্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেশের এই প্রবীণ রাজনীতিক ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।
সত্তরের ঐতিহাসিক প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয়ের সময়ও ন্যাপ থেকে একমাত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশ বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সত্তরের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য। সাম্যবাদী দর্শনে দীক্ষা নিয়ে ছাত্রাবস্থায় রাজনৈতিক জীবন শুরু করা এই নেতা দীর্ঘ ৫৯ বছর দাপটের সঙ্গেই চলেছেন। স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ সদস্যসহ চার দশকের বেশির ভাগ জাতীয় সংসদেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের সক্রিয় যোদ্ধা ছিলেন সুরঞ্জিত। একমাত্র বেসামরিক লোক হিসেবে তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি ৫ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৯, ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য, মহাজোট সরকারের মন্ত্রী, আইন-বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সর্বশেষ নবম জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কমিটিরও কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বামপন্থী সুরঞ্জিত ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

এদিকে, সিলেটস্থ দিরাই ছাত্রকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা আজ সোমবার বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকবেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এতে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করেছেন দিরাই ছাত্রকল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক আবুল হাসান পাবেল ও সদস্য সচিব তাপস সূত্রধর।

Share





Related News

Comments are Closed