শ্রীমঙ্গলে বসতভিটা ফিরে পেতে চায় সাঁওতাল পরিবার
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: সরকারী খাস জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ভিটে মাটি ছাড়া সাঁওতাল পরিবার তাদের বাপ দাদার পুরনো ভিটে ফিরে পেতে চায়। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
শনিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানিয়েছেন রতিশ সাঁওতাল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে পেশায় দিনমজুর রতিশ সাঁওতাল বলেন, তার স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে বালিশিরা পাহাড় মৌজার রাধানাথ গ্রামে সরকারের নিয়ন্ত্রনাধিন অর্পিত সম্পত্তিতে বংশ পরস্পরায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে একই এলাকার আব্দুল মতিন ও তার লোকজন বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতবাড়ি দখল করে ভিটে ছাড়া করে।
রতিশ সাঁওতালের মেয়ে সুমী সাঁওতাল (১৭) বলেন ’মতিনের দল আমারে মারপিট করেছ ধরাধরি করছে, টানা হেচরাইয়া ঘর থেকে বাইর করছে। পায়ে মারছে হাঁটতে পারছি না’।
সুমী সাঁওতালের মা নিয়তি সাঁওতাল বলেন, গোসল করে আইয়া কাপড় পড়তে আছিলাম। তখন মেয়ে দুইটা ঘরে রান্না করতে আছিল। আমি কাপড় বদলানোর সময় আইয়া হেরা আক্রমন করছে। তারা ৩০/৩৫ জন ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, একই গ্রামের রাম প্রসাদ কৈরী (৭০), রাজরাম পাশী (৬৫), সত্য গোয়ালা (৭৫), সুদর্শন বাউড়ি (৪৮), সিতারাম ভর (৪৫), অযোদ্ধা রুদ্র পাল (৬১) ও দীন সাঁওতাল (৭৫)।
সংবাদ সম্মেলনে রাম প্রসাদ কৈরী বলেন, ‘মতিন ৪/৫ দিন আগে আমাকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়। তখন তার সাথে ছিল সত্যবান বাউরি। ১০ হাজার টাকাও দেয় আমার হাতে। ঝামেলা দেখে জানের ভয়ে টাকা ফেরৎ দেই।
রাজরাম পাশী বলেন, এরশাদ সরকার আমল থেকে আব্দুল মতিন আমাদের হিন্দুদের প্রতি বেশী অত্যাচার করেছে। একটি দখল করে বিক্রি করে আবার আরেকটি দখল করে। তার কারণে রাম প্রসাদসহ আরো অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।
মতিন মিয়ার আতংকে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে ৭টি সংখ্যালঘু সাঁওতাল পরিবার। তাদের জমি জমা নিয়ে বিভিন্ন সময় সে মামলা হামলায় নিঃস্ব করেছে। এর মধ্যে ভূপেশ মুন্ডা, কৃষ্ণ মুন্ডা, রাম জনম ভর, জুগেশ মুন্ডা, সুভাষ ভর ও সনছড়া মুন্ডা ভারতে পালিয়ে গেছে। এছাড়া দুর্গা প্রসাদ কৈরী সুরমা চা বাগানে ও জয়রাম কৈরী ফুলছড়া বাগানে পালিয়ে যান।
জানতে চাইলে আনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল মতিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পুর্ণ বানোয়াট। তিনি বলেন ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি ওই জমির ভোগদখল স্বত্ব রতিশ সাঁওতালের বাবা উদয় সাঁওতালের কাছ থেকে তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয় করেন। রতিশ জানেন এই জমির ভোগদখল সত্ত¡ তিনি তার বাবার কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু প্রভাশালী মহলের ইন্ধনে রতিশ এই জমি নিয়ে কিছুদিন পরপর হাঙ্গামা বাধাচ্ছে বলে মতিন দাবী করেন।
Related News
শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর ইউনিয়নে ফলদ, ভেষজ ও বনজ বৃক্ষচারা বিতরণ
সালেহ আহমদ (স’লিপক): পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বিপ্লব জোরদারের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২নংRead More
নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর ধলাই নদী থেকে টমটম চালকের মরদেহ উদ্ধার
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্যাটারিচালিত টমটমসহ ধলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টাRead More



Comments are Closed