Main Menu

জেলে কন্যা ধর্ষণের মামলা নিল পুলিশ, ধর্ষক গ্রেফতার

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ থেকে: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ধর্ষণের ঘটনায় আইনি সহায়তা নিতে আসা এক জেলে কন্যা ও তার পরিবারের সদস্যদের রাতভর থানার বারান্দায় বসিয়ে রেখে সকালে ওসি ছুটিতে গেছেন বলে থানার সেকেন্ড অফিসার তাদেরকে থানা থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত আর ওই সেকেন্ড অফিসার ধামাচাঁপটা দিতে ব্যর্থ হলেন।
ভিকটিম ও গ্রামবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের হরিনাকান্দি গ্রামের বড়গোষ্ঠী খ্যাত গ্রামের প্রভাবশালী রোজদার মিয়ার বখাটে ছেলে বাছিত মিয়া ও তার সহযোগী রুপা মিয়ার ছেলে জুয়েলের সহযোগীয় এক আত্বীয় বাড়িতে যাবার পথে বৃহস্পতিবার রাতে একটি পতিত বাড়িতে নিয়ে ওই গ্রামেরই এক দরিদ্র জেলের কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণ করে। পরিবার ও গ্রামবাসী খোঁজাখুজি করে অজ্ঞান অবস্থায় পতিত ঘর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে আইনি সহায়তা পেতে ২ ঘন্টায় হাওর পাড়ি দিয়ে রাত ১২টায় ভিকটিমকে নিয়ে থানায় পৌছেন।
এদিকে রাতভর থানার বারান্দায় ভিকটিমকে নিয়ে পরিবার ও স্বজনরা বসে থাকার পরও থানার এক এসআই জেলে কন্যার অভিযোগ আমলেই নেননি, উল্টো ওসি সাহেব ছুটিতে গেছেন বলে পরদিন শুক্রবার সকাল আটটায় তাদেরকে থানা থেকে বের করে দেন। এরপর ভিকটিমের অভিভাবকগণ এই প্রতিবেদককে জানান, থানায় গেলে রাতে কিছু লেখালেখি করে কিন্তু সকালে অফিসার (ওসি) ছুটিতে চলে গেছেন বলে আমাদের থানা থেকে উল্টো বের করে দেয়া হয়। এরপর উপজেলা সদরের এক রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী তার প্রতিষ্ঠানে জেলের পরিবারটিকে আশ্রয় দিয়ে তিনি নিজেও মর্মাহত অবস্থায় এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভাই দেশে কী গরীবের জন্য আইনি সুবিধা পাবার কোন অধিকার নেই?। থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার বলেন, ওই পরিবারের লোকজন সেকেন্ড অফিসারে সাথে আলাপ করেছেন। থানার সেকেন্ড অফিসার এ প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে থানায় কেউ এসেছিলো, সে কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে আলাপচারিতায় এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করে, না-না বিষয়টি ডিউটি অফিসার ড্রিল করেছেন ।’ এরপর কয়েক দফা কল করে এ প্রতিনিধির সাথে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করে বিষয়টি পত্রিকায় না লেখার জন্য অনুরোধ করেন।’ দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, স্থানীয় আঞ্চলিক ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে “ জেলে কন্যাকে ধর্ষণ, মামলা নিলো না পুলিশ” শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হলে পুলিশ বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। পাঠকরা এ নিয়ে সামাজিক যোযোগ মাধ্যমে তীর্ষক মন্তব্য করেন। বিষয়টি দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে আসলে ওই সেকেন্ড অফিসার তিরস্কারের শিকার হয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক এদিক-ওদিক খোঁজে ভিকটিম ও তার অভিভাবদেরকে ফের থানায় নিয়ে আসেন মামলা রুজু করার জন্য। ওই সেকেন্ড অফিসার শুক্রবার বেলা প্রায় আড়াইটার দিকে নিজ মুঠোফোনে এ প্রতিনিধির সাথে ফের ভিকটিমের মাকে আলাপ করাতে গিয়ে জানাতে চান, ভাই জিজ্ঞাস করুন উনাদেরকে আমি কী থানা থেকে বের করে দিয়েছি? ওটা তো ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব ছিল।
basithএদিকে জেলে কন্যা ধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার মামলা রুজুর সময়-কাল হেরফের করে মামলায় ক্যাস ডকেট, এজাহার ডায়রী ভুক্ত করা হলেও মামলায় একমাত্র আসামী করা হয়েছে বড়গোষ্ঠীর জমাদারের সেই লম্পট ছেলে বাছিতকে কিন্তু তার সহযোগী রুপার ছেলে জুয়েলকে রহস্যজনক কারনে আসামী করতে দেয়নি থানা পুলিশ।
এদিকে মামলার তদবীর করতে আসা গ্রামের জলমহাল ব্যবসায়ী গয়াস মিয়া বেলা ১২টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেই এ প্রতিনিধিকে জোড় গলায় বলেন, ভাই ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের ঘটনা টিকবেনা, তিনি আরো বলেন ভজন বাবু নামক একজন আপনার সাথে দেখা করবে, আপনি যদি ছেলের পক্ষে ( বাছিতের) আবার হেডলাইনে ভালো করে লেখইন তাহলে আমরাও আপনার জন্য কিছু (টাকা দেয়ার ইঙ্গিত) করমুনে। তিনি আরো বলেন ধর্ষণের ঘটনাটি সত্য নয় ছেলেটি আমার ভাইগনা’। ধর্ষন হয়েছে কীনা এ ব্যাপারে গয়াস মিয়া কীভাবে নিশ্চিত হলেন জানতে চাইলে তিনি এ প্রশ্নের কোন সদুক্তর না দিয়ে একাধিবার বলতে থাকেন ভজন বাবু আপনার সাথে দেখা করবে।’
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. আতিকুর রহমানের সাথে শনিবার সকাল প্রায় সোয়া ১১টায় এ প্রতিনিধির আলাপকালে তিনি বলেন, আসামী বাছিতকে শনিবার ভোররাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed