সুনামগঞ্জে ২ কোটি টাকা মুল্যের গাড়ি ভুয়া কাগজপত্রে রেজিষ্ট্রেশন
হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসা প্রায় দুই কোটি টাকা মুল্যের বিলাস বহুল গাড়িটি রেজিষ্ট্রেশন করে দেয়ায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটি)এর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখবে দুদক। যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই কীভাবে বিআরটিএ ব্যবসায়ী মোর্শেদ আলম বেলালের মালিকানাধীন প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল নেক্সাস কালো রংয়ের গাড়িটির রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়েছে এর সাথে বিআরটিএর কোন কর্মকর্তা কর্মচারীর উৎকোচ গ্রহনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও দুদক আইনগত ব্যবস্থা নিবে। উল্ল্যেখ যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসা মোর্শেদ আলম বেলালের হেফাজত থেকে দু’কোটি টাকার মুল্যের নেক্সাস কালো রংয়ের গাড়িটি গত ২৬ জুন আটক করে শুল্ক গোয়েন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, জব্দকৃত গাড়িটিতে শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলেও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য কাগজপত্র ছিল আসল। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশন করেছে। প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে বিআরটিএর এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ চক্রের সহায়তায় শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে ভুয়া কাগজপত্রের বিপরীতে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন (রেজি নং-সিলেট ঘ-১১-০৩০১) ও মালিকানা স্থানান্তরিত করা হয়। ওই জালিয়াত চক্রকে ধরতে এবার নথিপত্রসহ অভিযোগটি দূনীতি দমন কমিশনে (দুদক)কে প্রেরণ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান স্বাক্ষরিত চিঠিটি স¤প্রতি দুদকে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ড. মইনুল খান বলেন, ‘গত ২৬ জুন তারিখে আমরা অভিযানে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে বিলাসবহুল নেক্সাস কালো রংয়ের গাড়িটি জব্দ করি। গাড়িটির কাগজ পত্রাদি পর্যালোচনায় দেখা যায় বিট্রিশ পাসপোর্টধারী রুপা মিয়া চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়িটি কারনেট-ডি প্যাসেজ এর সুবিধার আওতায় আমদানি করলেও বিদেশে ফেরত দেওয়া হয়নি। ফাঁকি দেওয়া হয়েছে শুল্ক-করাদি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির মামলা করেছি। কিন্তু বিআরটিএর একটি চক্রের সহায়তায় গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও মালিকানা পরিবর্তনে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে, যা দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। তাই বিষয়টি দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে।
দুদকে পাঠানো চিঠির সূত্রে জানা যায়, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দা দল সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত ২৬ জুন মো. মোর্শেদ আলম বেলালের মালিকানাধীন বিলাসবহুল নেক্সাস কালো রংয়ের গাড়িটি জব্দ করেন। পরবর্তী সময়ে গাড়িটির কাগজপত্রাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিট্রিশ পাসপোর্টধারী রুপা মিয়া চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়িটি কারনেট-ডি প্যাসেজ এর সুবিধার আওতায় আমদানি করেছেন। তবে শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পরে বিদেশে ফেরতের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি। ফাঁকি দেওয়া হয়েছে শুল্ক-করাদি।
শুধু তাই নয়, প্রযোজ্য শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে সুকৌশলে বিআরটিএর সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় ভুয়া কাগজপত্রের বিপরীতে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন (রেজি নং-সিলেট ঘ-১১-০৩০১) ও মালিকানা স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমান গাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর গাড়িটি ক্রয় করেন তিনি।
শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রপ্তানি শিপিং বিলের একটি ভুয়া কাগজ (শিপিং বিল নং-ওয়াইএইচসিজিএস২৬২০০৫) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ধরনের জালিয়াতি দুদক আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ। তাই শুল্ক ফাঁকির মামলা সংশ্লিষ্ট গাড়িতে রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও মালিকানা পরিবর্তনে জালিয়াতির অভিযোগটি সুষ্ট তদন্তের জন্য দুদকে প্রেরণ করা হয়। টানা ২১ দিন নজরদারির পর চলতি বছরের ২৬ জুন সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের কালো রঙের বিলাসবহুল লেক্সাস জিপ (আরএক্স ৩০০) জব্দ করা হয়েছিল। গাড়ির বর্তমান মালিক ৭৫ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই বছর আগে সিলেটের এনকে করপোরেশন নামে এক গাড়ি বিক্রেতার নিকট থেকে গাড়িটি ক্রয় করেছিলেন। কারনেটের গাড়ির তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, একই চেসিস ও মডেলের গাড়ি ২০১০ সালে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। গাড়িটি বর্তমানে শুল্ক গোয়েন্দার দপ্তরে রাখা হয়েছে।
Related News
সুনামগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর নদীতে ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজের দুই দিন পরRead More
ছাতকে ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই লেন সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বহুল প্রত্যাশিত গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক আঞ্চলিক সড়কের দুই লেনRead More



Comments are Closed