Main Menu

মিরাবাজারে ভুয়া দলিলে জায়গা দখলের অভিযোগ

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌরসী স্বত্বের বিদ্যমান উত্তরাধিকারীদেরকে না জানিয়ে ভূয়া দলিল সৃজনের মাধ্যমে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।

Manual4 Ad Code

বুধবার (১৯ মার্চ) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নগরীর মিরাবাজার উদ্দীপন-৪৫ এলাকার বাসিন্দা আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরী।

Manual6 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরী অনি বলেন, সিলেট মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার জেএল নং-৯১, এসএ দাগ নং-১১০৯১, এসএ খতিয়ান নং-৯০৬, বিএস ডিপি দাগ নং-১১৭৫৮, পরিমান-০.১৩ একর জমিটি আমার নানী হামিদা খাতুন চৌধুরীর নামে বিদ্যমান।
আমার নানী হামিদা খাতুন চৌধুরী এক পুত্র শোয়েব চৌধুরী ও ৩ কন্যা রেজিয়া খানম চৌধুরী, রিনা জামান চৌধুরী ও ফৌজিয়া খানম চৌধুরী বিদ্যমানে মারা যান। পরিতাপের বিষয় হলো, জনৈক হেলাল আহমদ ও মোহাম্মদ আনিস গং গোপনে আমার নানীর এ সম্পত্তির একটি বানোয়াট দলিল (রেজি; নং- ৮৯১১/২৩) তৈরী করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে। যেহেতু সম্পত্তিটি বাই মিটস এন্ড বাউন্ড বাটোয়ারা হয়নি তাই বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ভূয়া দলিল বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করেছি, যা চলমান আছে। (মামলা নং- স্বত্ব বাটোয়ারা ২২৬/২৩)।

Manual7 Ad Code

এমতাবস্থায়, গত ১৩ মার্চ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজগে বর্তমান পানির লাইনের নাম পরিবর্তন করে হেলাল আহমদ গং নামে একটি ভুয়া পানির বিল তৈরী করে। যা খুবই উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেমনের প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানানোর পর সিসিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেন এবং তা বদলানোর ব্যবস্থা করেন।

Manual1 Ad Code

আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরী অনি অভিযোগ করেন, ভূমিখেকো ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নানান রকম কুৎসা, অপবাদ ছড়িয়ে সামজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের হীন স্বার্থের জন্য আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আলী ওয়াকিউজ্জামানকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে দ্বিধা করেননি।

হেলাল আহমদ গত ১৫ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সাব-সেক্টর কমান্ডারকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলার চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। স্বাধীনতার মাসে এ ধৃষ্টতার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হেলাল গং জায়গা দখলে ব্যর্থ হয়ে এলাকার মুরব্বীদের সাথে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য প্রস্তাব দেন। এলাকার মুরব্বীদের কথামত ৩টি বৈঠকে আমি উপস্থিত হই যেখানে উদ্দীপন ক্লাবের সভাপতি শাহিন রেজা, স্থানীয় মুরুব্বী সেলিম রেজা, দৌলত, মঞ্জু ও জাহিদ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। উক্ত বৈঠকগুলোতে আমরা জানাই যে, বাটোয়ারা না হওয়ায় হেলাল গংদের দলিল আমরা মানতে বাধ্য নই। সভায় বিকল্প হিসেবে আমরা প্রস্তাব দেই যে, তারা যদি আমাদের সম্পূর্ন জায়গা ক্রয় করেন অথবা কোন গ্রাহক পান যে সম্পুর্ন জায়গা ক্রয় করবে তবে আমরা তা বিক্রি করতে রাজি আছি। তা না হলে মহামান্য আদালত যে রায় দেবে সেই মোতাবেক বাটোয়ারা হবে।

আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরী অনি আরো জানান, হেলাল আহমদ একসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবরুল হুসেন বাবুল সাহেবের পিয়ন হিসেবে কাজ করত। কালক্রমে সে সিলেট অঞ্চলে একজন ভুমিদস্যু হয়ে ওঠে এবং তাকে র‌্যাব হেলাল নামেও অনেকে জানেন। কথিত আছে সে র‌্যাবের সোর্স হিসেবে অনেক নিরীহ মানুষকে নানাভাবে ফাঁসিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। ইতিপূর্বে সে নগরীর উপশহরে ডা. আলাউদ্দীনের বাসা, সিলেট ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় প্রবাসী মজিরুদ্দীনের জায়গার জাল দলিল তৈরী, সিলেটের মিরাবাজারে একটি ফ্ল্যাট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার কারনে গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছে। হেলাল আহমেদ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে রিসোর্ট ও জায়গার ব্যবসায় জড়িত ছিলো।

সংবাদ সম্মেলনে আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরী ভূমিদস্যু হেলাল আহমেদের অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে এবং মহান স্বাধীনতার মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সাবসেক্টর কমান্ডারকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলার ধৃষ্টতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংশ্লিস্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code