দেশে দ্বিগুণ বেড়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েই চলেছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশে তালাকের হার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বেশি বাড়ছে শিক্ষিত দম্পতিদের মধ্যে। গত এক বছরে দেশে বিচ্ছেদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশে; যা আগের বছর ছিলো শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। শহরের তুলনায় গ্রাম এলাকায় এই বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েছে।
বিবিএসের ২০২১ সালের ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ বছর ধরে তালাকের হার ঊর্ধ্বমুখী। সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগে, কম সিলেটে। রাজশাহী বিভাগে বিবাহ বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে প্রতি হাজার জনসংখ্যার হিসাবে বিচ্ছেদ ঘটছে ১ দশমিক ৩৬ জনের। অন্যদিকে, সিলেটে প্রতি হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে বিচ্ছেদ হার শূন্য দশমিক ১৯ জন।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২২ এর জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন প্রকল্প (পিডি) পরিচালক আলমগীর হোসেন।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রাম এলাকায় এই স্থুল বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েছে। দেশে বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ; যা ২০২১ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। এই বিবাহ বিচ্ছেদের হার পল্লী এলাকায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শহর এলাকায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে বিবাহ বিচ্ছেদের হার দাঁড়িয়েছে ১ শতাংশ।
আপস যৎসামান্য : বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়লে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারী ও বিবাদী—দুই পক্ষকেই আপসের নোটিশ পাঠায়। দুই পক্ষে সমঝোতা না হলে কর্তৃপক্ষের আর কোনো দায়িত্ব থাকে না। আবেদনের ৯০ দিনের মধ্যে কোনো পক্ষ আপস না করলে বা আবেদন তুলে না নিলে তালাক কার্যকর হয়ে যায়।
বনিবনা না হওয়া : তালাকের আবেদনের ছক আইনজীবীদের কাছে প্রস্তুত অবস্থাতেই থাকে। শুধু বিভিন্ন পক্ষের নাম-পরিচয়-ঠিকানাই পাল্টে যায়। বাকি সব এক। হঠাৎ দু–একটি ক্ষেত্রে সামান্য হেরফের হয়। সিটি করপোরেশনের আবেদনগুলোতে তাই বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দেখানো কারণগুলো একেবারেই গৎবাঁধা।
প্রায় সব আবেদনেই বিচ্ছেদের কারণ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘বনিবনা না হওয়া’। এর বাইরে আছে পারিবারিক কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, যৌতুক, মাদক সেবন করে নির্যাতন, প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, যৌন অক্ষমতা, সন্দেহ, উদাসীনতা, ব্যক্তিত্বের সংঘাতসহ আরও কিছু অভিযোগ।
এদিকে, বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়ার এ প্রবণতা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা পারভীন বলেন, সমাজে সহিষ্ণুতা কমছে। নগরজীবনের চাপ, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, সঙ্গীর পছন্দ-অপছন্দ, জৈবিক চাহিদা পূরণ না হওয়া ইত্যাদি বিষয় দাম্পত্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে। নারীরা সংসারে নিজের মর্যাদা না পেয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। স্বামী-স্ত্রীর সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও বড় হয়ে উঠছে।
Related News
আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, তদন্তে দুদক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটিRead More
সারাদেশে কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সারাদেশের সব জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবাRead More



Comments are Closed