Main Menu

ভারতে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে নদীতে, নিহত ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের মোরবি জেলায় মাচ্ছু নদীতে নির্মিত প্রায় শত বছরের পুরোনো একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ।

রোববার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে সেতু ভেঙে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম খবর দিয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মোরবি জেলার মাচ্ছু নদীতে প্রায় শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক এক ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়েছে। মেরামতের পর চারদিন আগে উদ্বোধন করা হয় সেতুটি। ছয় দিনের মাথায় এই দুর্ঘটনা ঘটল বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ভেঙে পড়ার সময় পাঁচ শতাধিক মানুষ সেতুতে ছিলেন। তাদের অধিকাংশই পর্যটক। তাদের মধ্যে অন্তত ১০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অনেককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সেতু ভেঙে পড়ার পর দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে স্থানীয়রাও অংশ নিয়েছেন। তিন দিনের সফরে গুজরাটে অবস্থানরত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

গুজরাটের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ব্রিজেশ মেরজার বরাত দিয়ে দেশটির দৈনিক দ্য হিন্দু বলছে, মোরবিতে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনের প্রাণহানির তথ্য রাজ্য সরকার পেয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পরপরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

এনডিটিভি বলছে, সেতুটি মাঝখানে ভেঙে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সরকারও নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে চার লাখ এবং আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রায় শত বছর আগে নির্মিত মোরবির ঝুলন্ত এই সেতু দেশটির ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায়ও রয়েছে। গুজরাটের স্থানীয় নববর্ষ উপলক্ষ্যে মেরামতের পর গত চারদিন আগে (২৬ অক্টোবর) সেতুটি পুনরায় লোকজনের পারাপারের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

মোরবি পৌরসভার কর্মকর্তারা বলেছেন, যথাযথ ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই সেতুটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় একটি বেসরকারি ট্রাস্ট সেতুটির মেরামত ও সংস্কার কাজ করেছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের কাছে ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা না দিয়েই ওই ট্রাস্ট সেতুটি খুলে দিয়েছে।

ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে উদ্ধারকাজ চললেও, পরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে। আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় অনেকগুলো অ্যাম্বুলেন্সকে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে। সেতুটি ভেঙে পড়ার পরে কিছু মানুষ সাঁতরে তীরে আসার চেষ্টা করেন। কিছু মানুষকে ভাঙা সেতুর রেলিং ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করতেও দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানাচ্ছেন, সেতুর ওপরে যারা ছিলেন, তাদের অধিকাংশই পর্যটক।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলের পক্ষ একটি টুইট করে জানানো হয়, এই ঘটনায় তিনি মর্মাহত। আহতদের চিকিৎসা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারকাজে গতি আনতে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

সূত্র: এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed