Main Menu

ঈদযাত্রায় বাইকারদের নিতে হবে মুভমেন্ট পাস

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দুর্ঘটনা রোধে এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বাইক চলাচলে সরকারের নিষেধাজ্ঞায় বাইকাররা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাড়ি ফেরা নিয়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাইকারদের জন্য মুভমেন্ট পাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

গত মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ অপরাধসভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে গত ৩ জুলাই মহাসড়কে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বাইক চলাচল সাত দিনের জন্য নিষেধ করার কথা জানানো হয়। ৭ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানানো হয়। সিদ্ধান্তটি বাইকারদের তীব্রভাবে অসন্তুষ্ট করে। তারা রাজধানীতে কর্মসূচি পালন করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

করোনার মহামারির সময় যেভাবে চলাচলের জন্য মুভমেন্ট পাস নিয়ে চলাচল করা গেছে একইভাবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা নিজে এবং পরিবার নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারবেন। তবে কোনো রাইড শেয়ার করা যাবে না।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বাইক চালকদের চলাচলের বিষয়গুলো সবদিক বিবেচনা করে আমরা দেখেছি। যারা যৌক্তিক কারণ দেখাবেন তাদের তো বাধা দেয়া যায় না।

“ধরেন একজন তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাবেন, সঙ্গে তার পরিবার নিয়ে যাবেন। এইতো তার যৌক্তিক কারণ। এমনটা হলে আমরা তাকে মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে দেব। তবে মোটরসাইকেল দিয়ে কোনো রাইড শেয়ার করা যাবে না। শুধু নিজে ও পরিবারকে সঙ্গে নিতে পারবে। এজন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার মুভমেন্ট পাসের নমুনা তৈরি করছে।”

মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাইকাররা তাদের যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ট্রাফিকের ডিসি বা জেলার এসপি বরাবর আবেদন করবেন। সেখান থেকে তাদের কারণ বিবেচনায় পাস দেয়া হবে। তা দিয়ে তারা ভ্রমণ করতে পারবেন।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, আগেরবারের মতো এবারও অনলাইনে পাশ দেওয়া হচ্ছে না। এবার মুভমেন্ট পাসের জন্য ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে গিয়ে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। পুলিশের যদি মনে হয় আবেদনকারীর অন্য জেলায় মোটরসাইকেলে গমন করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তিনি অনুমতি পাবেন।

এদিকে গত ঈদুল ফিতরের আগে-পরের ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে ঈদের পরে জানিয়েছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য রোড। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছিল এ সংখ্যা ৩৭৬। আর যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছিল নিহতের সংখ্যা ৪৪৩। তিনটি সংগঠনের হিসাবেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।

সেভ দ্য রোড বলেছিল, ঈদের ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮১ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। তাদের হিসাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯০ জন নিহত হন।

ঈদ ঘিরে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছিল দুর্ঘটনার শীর্ষে ছিল মোটরসাইকেল। ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানায় সংগঠনটি।

Share





Related News

Comments are Closed