Main Menu

ক্যাম্পাস বন্ধ হলেই ইবিতে চুরি!

শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্বদ্যিালয় (ইবি) ক্যাম্পাস বন্ধের সাথেই চোরদের যেন মহা উৎসব শুরু হয়। এবার আবাসিক ভবন যমুনায় এক শিক্ষকের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় সিকিউরিটি ইনচার্জ এবং চতুর্থ তলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর থাকেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা প্রধানদের ভবনেই চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোরদের বাহবা দিচ্ছেন অনেকেই।

এর আগেও আবাসিক হলসহ বিভিন্ন জায়াগায় চোরেরা দেখিয়েছে তাদের ভেল্কিবাজি। বারবার চুরির ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা।

সূত্রমতে, গত ২ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ জুলাই সকাল ১০টায় খুলবে আবাসিক হল। বন্ধ শুরু দিনেই মাইকিং করে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ করা হয়। বন্ধের সময় শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস প্রবেশকালে কঠোর আইন থাকলেও বিগত আড়াই বছরে ১ ডজন চুরির ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, আবাসিক ভবন যমুনার নিচতলার গ্রিল কেটে ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এইচ.এ.এন.এম এরশাদ উল্লাহর বাসা থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ৬ জুলাই চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিকিউরিটি ইনচার্জ আবদুস সালাম (সেলিম)। চোর ভবনের পিছনের বেলকুনির গ্রিল কেটে ভিন্টিলেটর ভেঙে প্রবেশ করেছে এবং কক্ষের সবকিছু তছনছন করেছে বলেও জানান তিনি। একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় সিকিউরিটি ইনচার্জ সেলিম ও চতুর্থ তলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. শফিকুল আলম থাকেন বলে জানা গেছে। ড. এরশাদ ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় চুরির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যায়নি।

কবে নাগাদ চুরি হয়ে তা না জানলেও গত ৩ জুলাই যে দুইজন চোরকে ধরা হয়েছিলো তাদেরকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। ঐদিন দুই চোরকে তাদের স্থানীয় চেয়াম্যান ও মেম্বার আর চুরি না করার শর্তে ছাড়িয়ে নেন বলেও জানা গেছে।

এর আগেও দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের জানালা দিয়ে চুরি, খালেদা জিয়া হলের গ্রিল কেটে ৯ টি কক্ষে চুরি, সাদ্দাম হোসেন হলে চুরি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কক্ষে চুরি, শেখ রাসেল হলের সাবমার্সিবল পাম্প, নির্মাণাধীন রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন থেকে দুই ভ্যান টাইলস ও আট কার্টুন ক্যাবল চুরিরসহ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

কয়েকটি চুরির ঘটনায় চোরদের হাতেনাতে ধরে নিরাপত্তা কর্মীরা। ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন লোকজন জড়িত থাকার তথ্য খোদ চোর স্বীকারোক্তি দিলেও নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব চোরদের শুধুমাত্র মুচলেকা দেওয়া বা ইবি থানায় হস্তান্তর করাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে থানা থেকে তারা সহজেই ছাড়া পেয়ে যায় বলেও জানা গেছে। দোষীদের শাস্তির আওতায় না আনার ফলে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে জানিয়েছেন সচেতন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

বন্ধ ক্যাম্পাসে আবারও চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। গেটে শিক্ষার্থীদের ঢোকার সময় কড়াকড়ি থাকলেও ভিতরে কিভাবে এত চুরি হয় এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যদিও এর আগেও এ ধরণের প্রশ্ন উঠেছে কয়েকবার। সঠিক সমাধান না পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ব্যবস্থাকে দোষারোপ করছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়াও বন্ধ ক্যাম্পাস, এবং তাদের রেখে আসা জিনিসপত্র নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ হলে সিকিউরিটি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা থাকলে তো আমাদের তেমন কোন চিন্তাই থাকে না। আবাসিক এলাকাতে এ ধরণের ঘটনা প্রথম। কেন আমরা এত পুলিশ, আনসার দিয়ে বিষয়টা রোধ করতে পারছি না সেটা নিয়ে সকালে বসেছিলাম। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।”

Share





Related News

Comments are Closed