Main Menu

প্রবাসীদের থানায় যোগাযোগের নির্দেশ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত ১ মার্চ থেকে দেশে আসা প্রবাসীদের মধ্যে যারা পাসপোর্টের ঠিকানার বাইরে অন্য ঠিকানায় অবস্থান করছেন তাদের শিগগিরই নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পাসপোর্টে বর্ণিত ঠিকানা ব্যতীত অন্য ঠিকানায় অবস্থানকারী সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান অবস্থান ও মোবাইল নম্বর জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও পুলিশ সদরদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসেবে, ১ মার্চ থেকে এপর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত পুলিশ ১৮ হাজারের ঠিকানা পেয়েছে।

এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, জানুয়ারি থেকে সাড়ে ছয় লাখ মানুষ দেশে এসেছেন। এর মধ্যে মার্চ মাসের ২০ দিনেই এসেছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার। আর সোমবার পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মাত্র ১৭ হাজার ৭৯০ জন। দেশে আসার সময় সঠিক ঠিকানা না দেওয়া এবং পাসপোর্টের ঠিকানায় অবস্থান না করার কারণে ফিরে আসা এসব লোককে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বিদেশফেরত যেসব ব্যক্তি কোয়ারেন্টিনের ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা না মেনে অন্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর পুলিশের বিশেষ শাখা মার্চ মাসে যারা দেশে এসেছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে। এ সময় দেশে আসা ২ লাখ ৫৭ হাজার ও ২৬ হাজার বিদেশির তালিকা সারা দেশে পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়। এখন এরা কোয়ারেন্টিনের নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা জানতে পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে।

কোয়ারেন্টিনের শর্তভঙ্গের দায়ে মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ঝালকাঠিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি সোহেল জানান, করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম বন্ধ করেছে পুলিশ। মানুষকে সচেতন করছে, তাদের সহায়তা দিচ্ছে। আবার এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৩৩ জন আক্রান্তের তথ্য জানিয়েছে সরকার। যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিরা প্রবাসী বা বিদেশ ফেরত ব্যক্তি অথবা বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের সরকার বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিলেও বেশিরভাগ প্রবাসীরা তা মানছেন না। আবার জোরপূর্বক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলেও বেশিরভাগ প্রবাসীকেই তাদের পাসপোর্টে দেয়া ঠিকানায় পাচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Share





Related News

Comments are Closed