Main Menu

৪৭ বছর পর পরিবারকে খুঁজে পেলেন হাবিবুর রহমান

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অনেকটা সিনেমার গল্পের মতোই। সিনেমায় যেমন ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া স্বজনের দেখা মিলে যায় হঠাৎই, এ গল্প ঠিক তেমনই।

৪৭ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের হাবিবুর রহমান। তখন তিনি যুবক। হাবিবুর এখন ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। পরিবারকে কাছে পাওয়ার আসা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেনর। তবে ফেসবুকের কল্যাণে ৪৭ বছর পর নিজের পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন হাবিবুর রহমান (৭৮)। হাবিবের সন্তানরাও ফিরে পেয়েছে তাদের বাবাকে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের বেজগ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। বর্তমানে তার পরিবার বিয়ানীবাজারের পৌর এলাকার কসবা গ্রামে বসবাস করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান রড সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে তিনি বাড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বের হন ব্যবসায়িক কাজে। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজার পরও তার সন্ধান পায়নি। হাবিবুর রহমানের ৪ ছেলের মধ্যে ২ জন থাকেন লন্ডনে। অবশেষে ফেসবুকে এক ভিডিওর মাধ্যমে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারী) বিকেলে হাবিবুর রহমানকে ফিরে পান সন্তানরা।

জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর থেকে হাবিবুর রহমান মৌলভীবাজারের শাহাবুদ্দিন মাজার এলাকায় বসবাস করতেন। মানসিকভাবে তিনি অনেকটা ভারসাম্যহীন ছিলেন। আর ১২ বছর থেকে মৌলভীবাজারের শাহাবুদ্দিন মাজারের পাশের রায়েশ্রী গ্রামের রাজিয়া বেগম (৫০) নামের এক নারী হাবিবুর রহমানকে দেখাশোনা করতেন। রাজিয়া জানান, তিনি ওই লোকের খেদমত করতেন সবসময়।

২২ দিন আগে বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানের হাত ভেঙ্গে যায়। প্রথমে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান রাজিয়া বেগম। পরে সেখান থেকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

১২ বছর থেকে যে মানুষকে দেখাশোনা করে আসছেন রাজিয়া, তার এই বয়সে হাসপাতালে কীভাবে ফেলে যাবেন, কিংবা একা একা কীভাবে দেখাশোনা করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। পাশের বেডের রোগীর স্বজনদের সাথে এ নিয়ে গল্প করছিলেন রাজিয়া। ওই রোগীর স্বজনদের বাড়িও বিয়ানীবাজার উপজেলায়। ওই ব্যক্তি হাবিবুর রহমানের একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন।

ওই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেয়া হাবিবুর রহমানের ছবি এবং জীবনের অনেক গল্পের মিল দেখে আমেরিকা থেকে বিয়ানীবাজারের এক ব্যক্তি ওই ভিডিও হাবিবুর রহমানের পরিবারের কাছে পাঠান গত ১৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাতে।

হাবিবুর রহমানের ছবি এবং ভিডিওর মিল দেখে তার ছেলেরা শুক্রবার দিনে চলে আসেন সিলেট ওসমানী হাসপাতালে। তার ২ ছেলে শাহাব উদ্দিন ও জালাল উদ্দিন কথাবার্তা বলে চিনতে পারেন তাদের হারানো বাবাকে। হাবিবুর রহমানও তখন নিজের বাড়ির ঠিকানা বলেন।

বাবাকে পেয়ে আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা ওসমানী হাসপাতাল থেকে বাবাকে নিয়ে আসেন নগরীর আল-হারামাইন হাসপাতালে। সাথে নিয়ে আসা হয় বাবাকে দেখাশোনা করা রাজিয়া বেগমকেও। তাকেও হাবিবুর রহমানের সন্তানরা চিকিৎসা করাচ্ছেন।

হাবিবুর রহমানের নাতি কেফায়েত হোসেন দাদাকে পেয়ে অত্যন্ত খুশি। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে দাদার গল্প শুনছি বাবা চাচাদের কাছ থেকে। মনে আশা ছিল দাদাকে একদিন ফিরে পাবো। আজ আমাদের সবার আশা পূরণ হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed