ঈদে ঘুরে আসুন গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
মাছুদ পারভেেজ (গাজীপুর) সংবাদদাতাঃ ঈদে ঘুরেআসুনগাজীপুরশ্রীপুরউপজেলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসাফারি পার্কে।
ভাওয়াল গড়ের ছোট ছোট টিলা, শাল-গজারি সমৃদ্ধ শালবনের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের নানা বণ্যপ্রাণির অবাধ বিচরণের অন্যতম স্থান এটি।
প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে আপনার পরিবারসহ একদিনেই ঘুরে আসার উপযুক্ত স্থান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ককে বেছে নিতে পারেন।
পার্কের অবস্থান:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলাধীন মাওনা ইউনিয়নের বড় রাথুরা ও সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পীরুজালী মৌজার শাল বনের ৪৯০৯.০ একর বনভূমিতে গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক।
যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী সব বাসে করেই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যেতে পারবেন। গাজীপুর জাগ্রত চৌরঙ্গী পার হয়েই ময়মনসিংহ অভিমুখী ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকা পাবেন। বাজারে থাকা পার্কের দৃষ্টিনন্দন একটি ফটক আপনাকে স্বাগত জানিয়ে মূল পার্ক পর্যন্ত নিয়ে যাবে। তবে বাঘের বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের অবস্থান।
প্রবেশ ফি:
পর্যটকগণ নির্ধারিত ফি প্রদানের মাধ্যমে সাফারি পার্ক পরিদর্শন করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্ক ৫০ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ১০ টাকা।
কোর সাফারি পার্কের প্রবেশ ফি:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের অন্যতম আকর্ষণ কোর সাফারি। কোর সাফারির ভেতর অবাধে বিচরণ করছে বাঘ, জেব্রা, জিরাফ, সাদা সিংহ, সাম্বার, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, ভাল্লুক ও গয়াল। যেখানে আপনি সাফারি পার্কের নির্দিষ্ট কাচঘেরা গাড়িতে করে অবাধে বিচরণ করে এসব প্রাণি দেখতে পারবেন। কোর সাফারিতে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাড়ি পার্কিং ফি:
সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে বিশাল জায়গাজুড়ে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সু-ব্যবস্থা। এখানে গাড়ির পার্কিং খরচ বাবদ বিভিন্ন ধরনের ফি নির্ধারণ করা আছে। বাস, কোচ ও ট্রাক প্রতি ২০০ টাকা, মিনিবাস, মাইক্রোবাস প্রতি ১০০ টাকা, প্রাইভেটকার, জিপ প্রতি ৬০ টাকা ও মোটরসাইকেল ফি ১০ টাকা। পার্কের প্রবেশের আগে গাড়ি পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানে উল্লেখিত ফি পরিশোধ করে গাড়ি বাইরে রেখে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।
পার্কে আসা দর্শনাথীরা যা উপভোগ করবেন:
১. তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্রে ভিডিও ব্রিফিং/প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে সাফারি পার্ক সম্পর্কে সাম্যক ধারণা নিতে পারেন।
২. ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে বন্যপ্রাণি ও উদ্ভিদ প্রজাতি বৈচিত্র্য সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকরা পরিচিতি লাভ করতে পারেন।
৩. সাফারি পার্কের নির্দিষ্ট কাচঘেরা মিনিবাসে চড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণরত বাঘ, জেব্রা, জিরাফ, সাদা সিংহ, সাম্বার, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, ভাল্লুক, গয়ালসহ বিচিত্র প্রাণির জীবনবৈচিত্র্য উপভোগ করতে পারবেন।
৪. লেকের পাশে দেখতে পাবেন অসংখ্য অতিথি ও জলজ পাখি।
৫. পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে বনাঞ্চলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও বণ্যপ্রাণি অবলোকন করতে পারবেন।
৬. পাখিশালায় দেখতে পাবেন দেশি-বিদেশি অসংখ্য বিপন্নপ্রায় পাখি।
৭. এছাড়া পার্কজুড়ে থাকা বিভিন্ন বেষ্টনীতে থাকা অজগর, কুমির, উট পাখি, ইমু পাখি, ময়ূর ও বিরল প্রজাতির প্যারা হরিণ দেখতে পাবেন।
৮. হাতিশালায় হাতিতে উঠার অপূর্ব সুযোগ রয়েছে আপনার জন্য।
৯. প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠা প্রজাপতি কর্নারে ভিন্ন মাত্রা এনে দেবে আপনাকে। প্রজাপতি জীবনচক্র সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন প্রজাপতি কর্নার থেকে।
বঙ্গবন্ধু স্কয়ার:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রবেশ করলেই আপনাকে স্বাগত জানাবে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে সাজানো গোছানো বাগানে রঙ-বেরঙয়ের ফুলের সুবাস আপনাকে মুগ্ধ করবে। ফুলের বাগানে আতিথেয়তার পর আপনি পার্কের শাল-গজারির সবুজে আবৃত পুরো পার্ক ঘোরার পাশাপাশি বিভিন্ন বেষ্টনীতে থাকা দেশি-বিদেশি পশু-পাখি দেখবেন।
সাফারি কিংডম:
সাফারি কিংডমে পর্যটকগণ পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে পারবেন এবং প্রাণিকূলকে ছোট-খাট বেষ্টনীর মধ্যে আবদ্ধ রাখা হবে। সাফারি কিংডমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন বন্যপ্রাণির নৈপুণ্য ও খেলাধুলা প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্যটকদের চিত্তবিনোদন, বন্যপ্রাণি সংক্রান্ত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা। সাফারি কিংডম ৫৭৫ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, বৃহৎ আকারের গাছপালা ঘেরা ক্রাউন্ট ফিজেন্ট এভিয়ারি, ধনেশ এভিয়ারি, প্যারট এভিয়ারিসহ দেশি-বিদেশি পাখির পাখিশালা, কুমির পার্ক, অর্কিড হাউজ, প্রজাপতি কর্নার, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, কচ্ছপ-কাছিম ব্রিডিং সেন্টার, লামচিতা হাউজ, ক্যাঙ্গারু বাগান, হাতি-শো গ্যালারি, ময়ূর-ম্যাকাও ওপেন ল্যান্ড, ফেন্সি কার্প গার্ডেন, ফেন্সি ডার্ক গার্ডেন, লিজার্ড পার্ক, ফুডকোর্ট, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও জলাধার ইত্যাদি।
Related News
এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে!
পর্যটন ডেস্ক: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত ছয়টি দেশে ভ্রমণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত একক পর্যটনRead More
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা যাত্রা সহজ করতে মালয়েশিয়ার নতুন উদ্যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও রোগীবান্ধব করতে উদ্যোগRead More






Comments are Closed