আদালতে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর বখশিবাজারের বিশেষ আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তিনি আদালতে পৌঁছান। এরপর বেলা একটা ৫২ মিনিটের দিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় কেবল খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হলেও বাকি গাড়িগুলো আটকে দেয়া হয়। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার সাথে আসা নেতা-কর্মীদেরও বাইরে আটকে দেয় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরআগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রওনা হন। রাস্তায় নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে তিনি আদালতে পৌঁছান।
বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর মগবাজার পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা হাজার হাজার নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যোগদেন। সেখানেই বাধা দেন সরকারি দলের সমর্থকরা। এসময় উভর পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তারা পুলিশের সঙ্গে পিছু হটে।
এরপর বেলা ১টা ১৪ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর কাকরাইল মোড়ে পৌছালে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে রূপ নেয় সংঘর্ষে। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর। এরপরও এগোতে থাকে গাড়িবহর।
রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করবেন। গত ২৫ জানুয়ারি আদালত খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের (৮ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। গাড়িবহরের সামনে ও পেছনে ছিল ব্যাপক র্যাব ও পুলিশ। গাড়ির সামনে ছিল পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি। পেছনে ছিল র্যাবের মোটরসাইকেলের বহর। এদিন সড়ক বন্ধ রেখে নির্বিঘ্নে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া বিএনপি প্রধানকে। এছাড়া খালেদা জিয়ার গাড়িবহর যে সড়ক দিয়ে রওয়ানা হন সেসব এলাকায় পুলিশের সতর্ক পাহাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
তার আগে সকাল সোয়া আটটার দিকে মামলার অন্য আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয়।
রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালতে প্রবেশের পথে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। সবাইকে তল্লাশির পর ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়।
২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুদকের দায়ের করা এ মামলায় দু’পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৫ জানুয়ারি। ওইদিনই রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হবে। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন (৩০ বছর) কারাদণ্ড হতে পারে। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানও এ মামলায় আসামি। এ মামলাতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানের তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন।
এ মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
২৩৬ কার্যদিবসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। মামরায় ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে।
খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাকে দূরে রাখতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ মামলা জড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন কি না- তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, ‘নথি জালিয়তি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রসিকিউশন মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এ মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস পাবেন।’
অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন, ‘আমরা অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করেছি। আদালতের কাছে ছয় আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছি।’
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
এরপর ২৩৬ কার্যদিবসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। মামরায় ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে।
Related News
ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উসকানির অভিযোগে সাবেক উপাচার্যRead More
মৌলভীবাজারে হত্যা মামলায় ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মুনিয়ারপাড় গ্রামের মো. আজিজুল মিয়া হত্যা মামলারRead More



Comments are Closed